নিউজ ডেস্ক : সেমিনারে ইংরেজিতে বক্তব্য দেওয়ায় এবং সেমিনারের সব পেপারস ইংরেজিতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
তিনি সেমিনারের আয়োজকদের উদ্দেশে বলেন, অর্বাচিনের মতো অহেতুক ইংরেজি বলার বিলাসিতা পরিহার করতে হবে। এখানে উপস্থিত বিশ্বব্যাংকের একজনের জন্য ইংরেজি কপচাতে হবে, এটা বাতুলতা ছাড়া কিছুই নয়।
‘ফুড স্টক অ্যান্ড মার্কেট মনিটরিং সিস্টেম আন্ডার মর্ডান ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রোজেক্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে মর্ডান ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রোজেক্ট।
বুধবার (১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান, মর্ডান ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রোজেক্ট-এর প্রকল্প পরিচালক মো. গাজী উর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তাদের সকলেই ইংরেজিতে বক্তব্য দেন এবং কর্মশালার সবকিছু ইংরেজিতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পে শুধু বিশ্বব্যাংকের নয়, আমাদেরও টাকা আছে। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে বলেই একজনের জন্য আমাদের মাতৃভাষা বাংলা ভুলে যেতে হবে? এটা ঠিক নয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে একজন ছাড়া বাকি সবাই বাংলা বোঝেন। বাংলায় বললে বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যেত। অহেতুক ইংরেজি কপচানোর কি দরকার? ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কাজ করেন তাহলে আমাকে অতিথি করে আনবেন না।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সবকিছু ইন্টারনেটের আওতায় আনা হচ্ছে। ডাটাবেজ করা হচ্ছে। অনলাইনে এই ডাটাবেজ থেকে সুবিধাভোগী ও ডিলারদের নামসহ সর্বশেষ সব তথ্য জানা যাবে।
তিনি বলেন, সারা দেশের সরকারি গুদামসহ বেসরকারি গুদামে কার কাছে কত খাদ্য মজুদ আছে তাও এই অনলাইনের মাধ্যমে জানা যাবে। এতে কৃত্রিম খাদ্য সংকট সৃষ্টির হাত থেকে জাতি বাঁচবে।
তিনি আরও বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে যাতে খাদ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সে ব্যবস্থা থাকবে নতুন এই ব্যবস্থাপনায়। আধুনিক সংরক্ষণগারের জন্য বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৮টি আধুনিক সায়লো নির্মাণ করা হচ্ছে। ডিজাস্টার, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখানে খাদ্য মজুদ করা হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের অবস্থা জানতে এবং ভবিষ্যতে কী করতে হবে এ জন্য পিডব্লিউসি জরিপ করছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক খাদ্য নিরাপত্তায় ১ মার্চ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এই চালের কার্ডহোল্ডার কারা এবং কারা ডিলার তা অনলাইনের ডাটাবেজ থেকে জানা যাবে।বর্তমান সরকার দেশে ১০০ ভাগ খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন নিরাপদ ও পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে।
ইংরেজিতে বক্তব্য দেওয়ায় খাদ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ

Be the first to comment on "ইংরেজিতে বক্তব্য দেওয়ায় খাদ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ"