নিউজ ডেস্ক : মার্কিন তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার ও তা ফাঁসের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে। তবে এই নতুন তদন্তের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন হিলারি।
২০১৫ সালে প্রথম এই অভিযোগটি উঠলেও, তখন তদন্তের পর গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি বলে এফবিআই জানিয়েছিল। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
হিলারির মতে, নতুন তদন্তে আগের সিদ্ধান্তের কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে তিনি নতুন তদন্ত কেন জরুরি, এ বিষয়ে এফবিআই-এর কাছে ‘অবিলম্বে’ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) আইওয়া অঙ্গরাজ্যে হিলারি সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, নির্বাচনের যখন মাত্র ১১ দিন বাকি, তখন ভোটারদের অবশ্যই সব তথ্য জানাটা ‘অপরিহার্য’।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন জনগণের অবিলম্বে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা জানাতে হবে। এফবিআই-কে অনতিবিলম্বে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা জরুরি।
তদন্তের বিষয়ে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন উল্লেখ করে হিলারি সতর্ক করেছেন, ‘আমরা সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের ১১দিন দূরে রয়েছি।’
এর আগে এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি কংগ্রেসকে এক চিঠিতে নতুন তদন্তের বিষয়ে অবগত করেছেন।
এফবিআই’র পরিচালক জেমস কোমি জানিয়েছেন, ‘তদন্তকারীরা হিলারির মেইলগুলোতে কোনও বিশেষ তথ্য আছে বা কোনও বিশেষ বার্তা বহন করে কিনা, তারা তা খতিয়ে দেখছেন। এফবিআই ইতোমধ্যে ডেমোক্রাট প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভারে বেশ কিছু স্পর্শকাতর তথ্য পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবেদিন ও ওয়েনারের কাছ থেকে এফবিআই একটি ডিভাইস আটক করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ওয়েনার নর্থ ক্যারোলিনার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর কাছে যৌন হয়রানীমূলক বার্তা পাঠিয়েছেন।’
তবে এফবিআই-এর প্রধান কংগ্রেসের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘তদন্তকারীরা ইমেইলগুলোর সন্ধান পেয়েছে। তবে আমি এখনও নিশ্চিত নয়, এই মেইলগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিনা। আর এটাও বলা সম্ভব হচ্ছে না, এই অতিরিক্ত কাজগুলো শেষ করতে ঠিক কতো সময় লাগতে পারে।’
তবে জুলাইয়ে কোমি জানিয়েছিলেন, ‘২০০৯-১৩ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন হিলারি ক্লিনটন অসতর্কভাবে বেশ কিছু গোপন তথ্য আদান প্রদান করেন। যা অপরাধমূলক কাজ। মূলত ফেডারেলের আইন ভঙ্গ করে নিজের ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করে হিলারি এসব কাজ করেছিলেন।’
কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই এই বিষয়টিকে হিলারির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ বা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছেন তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
প্রেসিডেন্ট পদের জন্য এটি ‘দায়িত্বহীন আচরণ’ বলে দাবি করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।

Be the first to comment on "এফবিআই-এর নতুন ইমেইল তদন্তের ব্যাখ্যা দাবি করলেন হিলারি"