নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীর নিয়ে দ্বৈরথে নামলেন নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফ।
মঙ্গলবার স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদের জন্মভিটে মধ্যপ্রদেশের ভাবরা-আজাদনগরে দাঁড়িয়ে মোদী ঘোষণা করেন, ‘‘ভারতের অন্য প্রান্তে যেমন, তেমনি কাশ্মীরেও খুঁজে পাওয়া যাবে স্বাধীনতার একই অনুভব।’’ আর ইসলামাবাদে বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শরিফের ঘোষণা, ‘‘কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে আমি দায়বদ্ধ।’’ কাশ্মীরি যুবকদের হাতে বই, ল্যাপটপের বদলে ঢিল তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে কারা, সেই প্রশ্ন তুলে পাকিস্তানকে আজ নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর শরিফের মন্তব্য, ‘নির্যাতিত’ কাশ্মীরিদের কথা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টার ত্রুটি করবে না পাকিস্তান।
তরুণ হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক মাস ধরে অশান্ত কাশ্মীর। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। মারা গিয়েছেন ষাটের কাছাকাছি নাগরিক। কাশ্মীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদী সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। একই সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে মুখ খোলার জন্যও চাপ বাড়ছিল মোদীর উপরে। আজ ভাবরা-আজাদনগরের জনসভায় মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরের সমস্যা সমাধানে যে আলোচনার দরকার রয়েছে এবং তা ‘মানবিকতা, গণতন্ত্র ও কাশ্মীরিয়তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত’ বলেই মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘‘প্রত্যেক ভারতবাসী কাশ্মীরকে ভালবাসে। প্রত্যেক ভারতবাসী যে স্বাধীনতা ভোগ করে, কাশ্মীরবাসীর তা করা উচিত।’’
কাশ্মীর নিয়ে বার্তা দিতে যুব সমাজকেই বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এটা খুবই দুঃখের যখন দেখি ল্যাপটপ, বই বা ত্রিকেট ব্যাটের বদলে তরুণদের হাতে পাথর তুলে দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি কাশ্মীরের যুব সমাজকে প্ররোচনায় পা না দিয়ে ভূ-স্বর্গে শান্তি ফেরাতে আহ্বান জানান। মোদী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অটলবিহারী বাজপেয়ী যে ভাবে ইনসানিয়ৎ (মানবিকতা), জামুরিয়ৎ (গণতন্ত্র) ও কাশ্মীরিয়তের পথ বেছে নিয়েছিলেন, আমরাও সেই পথে হাঁটব।’’ পাকিস্তানকে নিশানা করে মোদীর মন্তব্য, ‘‘কাশ্মীরের সমস্যা সমাধানে কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করবে। তবে কারও কারও সেটা সহ্য হচ্ছে না। ধ্বংসের পথে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ হচ্ছে। কিন্তু যে সরলমতি তরুণদের হাতে পাথর তুলে দেওয়া হচ্ছে, তাদের কথা এরা ভেবে দেখছে না।’’ কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ শান্তি চাইছে বলেই মন্তব্য করেন মোদী।
মোদীর তরফে কাশ্মীরি যুবকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টার পাশাপাশি পাকিস্তানকে আজ কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত। বিদেশসচিব এস জয়শঙ্কর দিল্লিতে নিযুক্ত পাক হাইকমিশনার আব্দুল বাসিতকে ডেকে একটি ‘ডিমার্শ’ দেন। যাতে বলা হয়েছে, বাহাদুর আলি নামে এক পাকিস্তানি লস্কর জঙ্গিকে গত ২৫ জুলাই কাশ্মীরে গ্রেফতার করা হয়। পাকিস্তানে লস্কর-ই-তইবার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরে পাক সেনার মদতে ওই জঙ্গি ভারতে প্রবেশ করে। তার উপরে নির্দেশ ছিল ভারতীয় নিরাপত্তা ঘাঁটি ও সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালানো। পাক প্রশাসন জঙ্গি দমনে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও যে ভাবে ওই জঙ্গি সেনার সাহায্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করছে, সাউথ ব্লক তার তীব্র নিন্দা করেছে। তবে পাকিস্তান প্রশাসন যদি বাসিত আলিকে আইনি সাহায্য দিতে চায়— সে ক্ষেত্রে ভারতের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রস্তুতি বৈঠক বসেছিল ইসলামাবাদে। সেখানেই হুমকি দেন শরিফ।
আগামিকাল রাজ্যসভায় কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা। তার আগেই এই বিষয়ে মুখ খুলে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করে দিতে চেয়েছেন মোদী। যদিও সংসদ চলাকালীন কেন প্রধানমন্ত্রী গো-রক্ষা, দলিত বা কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে সংসদের বাইরে মন্তব্য করছেন, সেই যুক্তিতে মোদীকে আক্রমণের ছক কষছে বিরোধী শিবির।
কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে ঢিলেমি না দিলেও, সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দমনে এখন মানবিক ভাবে এগোতে চাইছে মোদী সরকার। শুরুতে যে ভাবে দমননীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল, তাতে বিপরীত ফল হয়েছে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। তাই পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির দু’টি দাবি— প্রথমত, কাশ্মীর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর সরব হওয়া ও দ্বিতীয়ত, অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাশ্মীর মডেল মেনে এগোনোর পরামর্শ মেনে নিয়েছেন মোদী। তবে শরিক পিডিপি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও, বিরোধী ন্যাশনাল করফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লার কটাক্ষ, ‘‘৩২ দিন সময় লাগল প্রধানমন্ত্রীর মুখ খুলতে!’’
আজ সকালে বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকেও মোদী জানান, বিরোধীরা দলিত বা কাশ্মীরের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চাইলে সরকারের আপত্তি নেই। সরকার জবাব দিতে প্রস্তুত।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Be the first to comment on "কাশ্মীর নিয়ে মোদী-শরিফ তরজা"