শিরোনাম

গুলশান সঙ্কটের রক্তাক্ত অবসান

নিউজ ডেস্ক  : ঢাকার গুলশানে এক ক্যাফেতে অস্ত্রধারীদের হামলায় জিম্মি পরিস্থিতি সৃষ্টির ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সঙ্কটের রক্তাক্ত অবসান ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ঘণ্টাখানেকের এই অভিযানের পর হলি আর্টিজান বেকারির ভেতরে লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে শেষ হয় অভিযান। উৎকণ্ঠা নিয়ে রাতভর ৭৯ নম্বর রোডের মোড়ে অপেক্ষায় থাকা এক স্বজনের প্রশ্নের জবাবে সকালে অভিযান শেষে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘১৩ জন সেইফ’।

ওই ক্যাফেতে শুক্রবার রাতে খেতে গিয়ে যারা জিম্মি হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কতজন নিহত হয়েছেন- সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরাও। পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য সেনা সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

পরে শনিবার দুপুরে সেনা সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মিদের উদ্ধারে অপারেশন ‘থান্ডারবোল্ট’ শুরুর আগেই ২০ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। অপারেশন শেষে রেস্টুরেন্টটি থেকে মোট ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছয়জন সন্ত্রাসী নিহত ও একজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব যে সাহসিকতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে তা অনন্য এবং তাদের এই অভিযানকালে দু`জন সাহসী পুলিশ অফিসার শাহদাত বরণ করেন এবং ২০ জনের অধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

অাইএসপিআর এর সংবাদ সম্মেলনের আগেই একাধিক সূত্রে জানা গেছে নিহত হওয়ার খবর। সেই সাথে পুলিশেরর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছিলেন তারা ভিতরে জবাই করা লাশ পেয়েছেন। আর সে বিষয়টি আরো পরিস্কার করলেন অাইএসপিআর।

এর আগে, হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট শুরুর ঘণ্টাপাঁচেক পর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর আসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

আইএসের মুখপত্র আমাক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এসব খবরে দাবি করা হয়, ‘তাদের’ এই হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন ৪০ জন, যাদের কয়েকজন বিদেশি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকজনের রক্তাক্ত লাশের ছবি দেখিয়ে সেগুলো হলি বেকারিতে জিম্মি বিদেশি নাগরিকদের বলে দাবি করেছে ‘আমাক’।

তবে কারা এই হামলার পেছনে রয়েছে, এটি আদৌ জঙ্গি হামলা কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পুলিশ বা র‌্যাবের কোনো কর্মকর্তা।

basic-bank

Be the first to comment on "গুলশান সঙ্কটের রক্তাক্ত অবসান"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*