নিউজ ডেস্ক : লুইস এনরিকে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার শিষ্যরা ইতিহাস গড়বে। তার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করল মেসি নেইমাররা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ইতিহাসে প্রথম লেগের চার গোলের ঘাটতি পুষিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার নতুন নজির গড়ল বার্সেলোনা। ছিল না। বুধবার রাতে ক্যাম্প ন্যু তে ৬-১ গোলের অসাধারণ এক জয়ে পিএসজিকে উড়িয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে লুইস এনরিকের দল।
প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ছিল ৪-০ গোলের হার। শুরুটা লুইস সুয়ারেসের হাত ধরে, শেষের নায়ক সের্হিও রবের্ত। মাঝে ছিলেন মেসি-নেইমারারা। শুরুতেই সুয়ারেসের গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। তৃতীয় মিনিটে পিএসজির ডি-বক্সে ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ছয় গজ বক্সের মধ্যে হেড করেন সুয়ারেস। পা বাড়িয়ে ফেরান মুনিয়ে। কিন্তু গোললাইন প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বল আগেই গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল।
৪০তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে পিএসজি; বার্সেলোনার আশার পালে লাগে হাওয়া। বাঁ-দিক থেকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ব্যাকহিল করে গোলমুখে বল বাড়ান। ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই ঠেলে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার লেইভিন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সফল স্পটকিকে দলকে স্বপ্ন ছোঁয়ার আরেকধাপ কাছে নিয়ে যান মেসি। লেইভিন নিজেদের ডি-বক্সে নেইমারকে ফেলে দিলে পেনাল্টিটি পায় বার্সেলোনা। এবারের আসরে পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকার এটি একাদশ গোল। ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় তার মোট গোল হলো ৯৪টি।
৫১তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় পিএসজি। কিন্তু কাছ থেকে এদিনসন কাভানির দৌলতে গোল পোস্টে বাধা পেলে বেঁচে যায় বার্সেলোনা। তবে এর ১০ মিনিট পরেই পাল্টা আক্রমণে গোল করে বসেন কাভানি। ডি-বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে টের স্টেগেনকে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। শেষ দিকে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে আশা দেখান নেইমার।
৮৮তম মিনিটে বাঁ-দিক থেকে চমৎকার বাঁকানো ফ্রি-কিকে লক্ষভেদের পর সফল স্পটকিকে স্কোরলাইন ৫-৫ করেন এই ব্রাজিল সুপারস্টার। যোগ করা সময়ে মুহূর্তে নেইমারের উঁচু করে বাড়ানো বল পা বাড়িয়ে জালে ঠেলে দেন বদলি হিসেবে নামা রবের্তো। বার্সেলোনা গড়ে ইতিহাস। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে শেষ আটে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।

Be the first to comment on "ঘোষণা দিয়েই ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা"