নিউজ ডেস্ক : চীনের পেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ১৪ অক্টোবর দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন। সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও ভারতের সাথে সম্পর্কে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। এ সফরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রকল্প অর্থায়ন এ ছাড়াও বাণিজ্য বৈষম্য কমিয়ে আনা, ঋণের সুদ কমানো ও শর্ত শিথিল করার ওপর জোর দেয়া হবে। চীনা প্রেসিডেন্টের সফর সামনে রেখে সোমবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (ইআরডি) সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে। গত বছর জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এ সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চুক্তি ও এমওইউ সই এবং বেশ কয়েকটি বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অর্জনের দিক থেকে মোদির সফরকে ভারত অত্যন্ত সফল মনে করে। বাংলাদেশ এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে চায়। চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং তা প্রতি বছরই বেড়ে চলছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৫০ কোটি ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ৬৮০ কোটি এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ৫৮৬ কোটি ডলার। এ ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানি সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেবে। চীনে বর্তমানে সাড়ে চার হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ। আরো ১৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে গত বছর চীন সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছিল সরকার। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকালে ইস্যুটি আবারো উত্থাপন করা হবে। চীনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৪ সালে শি জিনপিং ঢাকা সফর করেছিলেন। একই বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বেইজিং সফর করেন। এর আগে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে চীন সফর করেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বছর দুই দেশে বেশকিছু কর্মসূচি পালন করা হয়।
চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে

Be the first to comment on "চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে"