নিউজ ডেস্ক : আগামীকাল বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) জেলা পরিষদ নির্বাচন। দেশে এই প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার, ফরম, প্যাকেট, পরিচয়পত্র, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, লাল গালা, স্ট্যাম্প প্যাড, অমোচনীয় কালির কলমসহ নির্বাচনী সামগ্রী জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কমিশন চায় নির্দলীয় এই নির্বাচনটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া ৬১ জেলায় বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলায় স্থাপিত ভোট কেন্দ্রে দেশের প্রথম জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট দেবেন ভোটাররা।
ইতোমধ্যে ২২টি জেলায় একক প্রার্থী থাকায় চেয়ারম্যান পদে ২২জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখন চেয়ারম্যান পদে ৪১জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ২ হাজার ৯৮৫ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮০৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সাধারণ সদস্য ১৩৯ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬১ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের মেয়াদপূর্তিতে এবারই প্রথম জেলা পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন ভোটের মাধ্যমে। জেলায় অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।
প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদে। দেশের প্রায় ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে ১৩ জন করে প্রায় ৬০ হাজারের মতো নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে।
ইতোমধ্যেই জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) যাতে আচরণবিধি মেনে চলেন সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকারের কাছে কমিশন চিঠি পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জানিয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য এখনও এলাকায় অবস্থান করছেন তাদের এলাকা থেকে সরে আসার জন্য কমিশন থেকে স্পিকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা মূলত কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করব। যেহেতু এখানে জনপ্রতিনিধিরা ভোট দেবেন তাই আমরা কেন্দ্রের বাইরের চেয়ে ভেতরের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
এদিকে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচনের নির্বাচকমণ্ডলী সকলে জনপ্রতিনিধি ও সমাজে মর্যাদাশীল। তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। এই পর্যায়ের লোকজন দিয়ে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তাহলে কোনও পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। তাদের থেকে জাতি যেটুকু প্রত্যাশা করে, কমিশনও সেই আশা করে। তাদের থেকে আমরা ভালো কিছু আশা করি।
মঙ্গলবার বিকালে কমিশন সচিবালয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধ পরিকর উল্লেখ করে সচিব বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এই জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও অবাধ হবে আমরা এটা আশা করছি।
ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনে আমরা ব্যতিক্রমী কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। সেটা হলো কোনও ভোটারই কেন্দ্রে মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ব্যালট পেপার স্ক্যান করা যায়, এমন কিছু প্রবেশ করতে পারবেন না। যাতে ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ না হয়, তার জন্য এটা প্রতিপালনে আমরা নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।

Be the first to comment on "জেলা পরিষদ নির্বাচন কাল ॥ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন"