শিরোনাম

ঝিনাইদহের বুধবারের সংবাদসমূহ

জেলা সংবাদদাতা, ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে গাছের ডাল পড়ে বৃদ্ধ নিহত !
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে গাছের ডাল পড়ে নিমাই চন্দ্র নাথ (৬৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত নিমাই গোপিনাথপুর গ্রামের উপেন চন্দ্র নাথের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, সকালে নিমাই চন্দ্র বাড়ী থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে তার মাথার উপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
তিনি আরো জানান, ঝিনাইদহ দোমকল বাহিনীর কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এরপর হাসপাতালে বেলা ১১টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশব্যাপী বর্বরোচিত জঙ্গী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত !
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা অধিকার মঞ্চে দেশব্যাপী বর্বরোচিত জঙ্গী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে। বুধবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর বেলা ১২ টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার।

সে সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ জেলা অধিকার মঞ্চের সভাপতি ও সাবেক উপাধ্যক্ষ এন এম শাহজালাল, জেলা অধিকার মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, এইড এর ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) আশাবুল হক, প্রকল্প সমন্বয়কারী শাহাবুদ্দীন আহম্মদ, অধিকার মঞ্চের সদর উপজেলা সভাপতি সুরাইয়া পারভিন মলি, কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক কমলেশ শর্মা, কোটচাঁদপুর উপজেলার সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধন টি পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা অধিকার মঞ্চের সভাপতি ইছাহক আলী।

এছাড়াও মানববন্ধনে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, সুধীবৃন্দ, সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি এমপি আনার বলেন, ধর্মের দোহায় দিয়ে কমলমতি শিশু-কিশোর- যুবকদের জঙ্গী বানিয়ে মানুষ হত্যাসহ দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি এমপি আরো বলেন, পবিত্র কোরআন হাদিসে পরিস্কার বলা আছে, যার মানুষ হয়ে মানুষ খুন করবে তারা কবিরা গুনাহের শামিল হবে। তিনি জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এবার ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে শিক্ষক !
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শরিফুল ইসলাম আকাশ নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে এক শিক্ষক। আকাশ উপজেলার পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের আহম্মেদ এর ছেলে।

আকাশের পরিবার জানায়, কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র আকাশ মঙ্গলবার স্কুলে যায়। এরপর দুপুরে ক্লাসরুমের ভিতরে দাড়িয়ে থাকতে দেখে শিক্ষক কুমারেশ চন্দ্র সাহা তাকে বসতে বলে।
এসময় আকাশ তার বন্ধুর কাছ থেকে একটি বই নেওয়ার জন্য দাড়িয়ে থাকতে দেখে শিক্ষক কুমারেশ তাকে মাথায়, মুখে ও কানে আঘাত করলে সে অসুস্থ্য হয়ে যায়।

এরপর মুহাম্মদ আলী নামে এক শিক্ষক আকাশকে স্কুল থেকে বের করে দেয় এবং বলে তোর মতো ছাত্র আমাদের প্রয়োজন নেই।
আকাশের পিতা আহম্মেদ জানান, আকাশ কানে ও মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছে। সে কানে শুনতে পাচ্ছেনা। আকাশকে শৈলকুপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক কুমারেশ চন্দ্র সাহা ঘটনা অস্বীকার করেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত !
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ফজলে রশিদ রাব্বি (১৬) নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে রকি নামের আরো একজন। নিহত রাব্বি কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফয়লা গ্রামের বজলুর রশিদ নান্নুর ছেলে ও শহীদ নুর আলী কলেজের বিএম শাখার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে কালীগঞ্জ-কোলা সড়কের মিশনপাড়ায় এ দুর্ঘঠনা ঘটে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, রাব্বি ও তার বন্ধু রকি দুজন মটরসাইকেলে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কোলা-কালীগঞ্জ সড়কের মিশন পাড়া এলাকায় মটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করে। আহত রকিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

unnamed (1)ঝিনাইদহে নিখোঁজ স্বামীকে অক্ষত উদ্ধারের দাবীতে স্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলন !
পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ স্কুল শিক্ষক মিনারুল ইসলাম (৩৫) কে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তার স্ত্রী মোছাঃ মেহেরুন নেছা মেরী। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসনের প্রতি এই দাবী করেন। ঝিনাইদহ লিড ইন্টারনেশনাল স্কুলের শিক্ষক মিনারুল ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খামারাইল গ্রামের মৃত ইউনুস আলী খোন্দকারের ছেলে।

গত ৩০ জুলাই রাত ৩টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ খোন্দপাকার পাড়া থেকে পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। সাংবাদিক সম্মেলনে নিখোঁজ স্কুল শিক্ষক মিনারুলের মা সুফিয়া খাতুন, শ্বাশুড়ি সেলিনা খাতুন, ভাই রোকনুদ্দীন, বড় বোন লিপি খাতুন, খামারাইল গ্রামের মাতুব্বর আক্কাচ আলীসহ অর্ধশত নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্ত্রী মোছাঃ মেহেরুন নেছা মেরী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন তার স্বামী মোঃ মিনারুল ইসলাম হতদরিদ্র একটি পরিবারের সন্তান। ছোট বেলায় এতিমখানায় থেকে পড়ালেখা করেছেন। পরবর্তীতে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে পড়ালেখা শেষ করে ঝিনাইদহ শহরে একটি কেজি স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন।

স্ত্রী মোছাঃ মেহেরুন নেছা মেরী দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানান, আমার স্বামী কোনো রাজনীতি করেন না। তিনি হতদরিদ্র পরিবারে সন্তান হওয়ায় জীবনে কঠিন যুদ্ধ করেছেন। বিসিএস পরীক্ষা দেওয়া ও নানা স্থানে চাকরীর জন্য তার স্বামী সর্বদা ব্যস্ত থাকতেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৩০ জুলাই রাত ৩ টার দিকে আমাদের ভাড়া বাসায় পুলিশ পরিচয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা ভেতরে প্রবেশ করে আমার স্বামীর হাত ধরে বাইরে আসতে বলেন। এরপর তারা ঘরে থাকা আলমিরা থেকে বিসিএস দেওয়ার জন্য সংগ্রহ করা একটি গাইড বই নিয়ে যায়। যারা এই অভিযানে অংশ নেন তাদের কোমরে পিস্তল ও ওর্য়ালেস সেট ছিল। বেশির ভাগ সাদা পোশাকে থাকলেও ৩/৪ জন পুলিশের পোশাক পরে ছিলেন। বাসার বাইরে চারটি গাড়িতে আসা ওই লোকগুলো আমার স্বামীকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে শহরের দিকে চলে যায়। এরপর ৩ দিন অতিবাহিত হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় জিডি করতে গেলেও জিডি নেওয়া হচ্ছে না।

স্ত্রী মোছাঃ মেহেরুন নেছা মেরী জানান, ওই ঘটনার পর থেকে আমরা বিভিন্ন ভাবে তাকে খুজে বেড়াচ্ছি। থানায় গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে তারা মিনারুল ইসলাম নামে কাউকে আটক করেনি। পুলিশের বড় কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আমার স্বামীর কোনো খোঁজ দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। ফলে আমাদের আশংকা তাকে কথিত ক্রসফায়ার সাজিয়ে হত্যা করা হতে পারে। অথবা তার লাশ গুম করে ফেলা হতে পারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্ত্রী মোছাঃ মেহেরুন নেছা মেরী তার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফেরতের দাবী জানিয়ে বলেন, আমার সাড়ে ৪ বছরের বাচ্চা নুসরাত বাবার জন্য সারাক্ষন কান্নাকাটি করছে। এই ছোট্ট শিশুটিকে যেন এতিম করা না হয়। সাংবাদিক সম্মেলনের সময় হল ভর্তি স্বজনরা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন।
এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্ত্রী মেহেরুন নেছা মেরী ডুকরে ডুকরে কান্নার সময় তার স্বজনরাও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করতে থাকেন। এ দিকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া নিখোঁজ স্কুল শিক্ষক মিনারুল ইসলামের বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, এই নামে পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

basic-bank

Be the first to comment on "ঝিনাইদহের বুধবারের সংবাদসমূহ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*