শিরোনাম

টিআইবির প্রতিবেদন বানোয়াট, মালয়েশিয়ায় কোনো সিন্ডিকেট নেই

নিউজ ডেস্ক : অভিবাসন খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনকে বানোয়াট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। এ প্রতিবেদনকে তিনি মন্ত্রণালয় বা অভিবাসন খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র উল্লেখ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ পাঠাব’।
রাজধানীর ইস্কাটনে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস’র (আরবিএম) নবগঠিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসনের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে দাবি করে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী পুরুষদের ৯০ শতাংশই দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার। আর ভিসা বা চাহিদাপত্র কিনতে শুধু ২০১৬ সালেই ৫ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। একইভাবে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের গ্রুপ ভিসার নিয়োগ অনুমতি নিতে মন্ত্রণালয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটকে ১৩-১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। বিএমইটির বহির্গমন শাখায়ও ছাড়পত্র নেওয়ার আগে কর্মীদের ঘুষ দিতে হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দালালদের প্রাধান্যে বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের প্রক্রিয়াটি জটিল। প্রতিবেশী যেকোনো দেশের চেয়ে বিদেশ যেতে বাংলাদেশিদের বেশি খরচ হয়।
টিআইবির এই প্রতিবেদন এবং বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়োগ অনুমতি বাণিজ্য ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ সচিব বেগম শামছুন্নাহার বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ের সব বিভাগীয় প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছি। তারা যাচাই-বাছাই করে মতামত দেওয়ার পরে টিআইবি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ পাঠাবো।
মালয়েশিয়ায় কোনো সিন্ডিকেট নেই
এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়াতে কোনো সিন্ডিকেট নেই। ১০-১২ রিক্রুটিং এজেন্সি সেখানে কাজ করবে। তবে সিন্ডিকেটের অনেক চেষ্টা হয়েছে। আমি করতে দিইনি।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রবাসী কল্যাণ সচিব বলেন, বর্তমানে দেশে ১০৮১টি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। কোনো দেশেই সব এজেন্সি একসাথে লোক পাঠায় না। সৌদি আরব, কাতারসহ অন্যান্য দেশে ২০-৫০টি এজেন্সি লোক পাঠাচ্ছে। আমরা মালয়েশিয়ার কাছে বৈধ সব এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছিলাম। সেখান থেকে তারা এই ১০টি এজেন্সিকে বাছাই করেছে। তাদের সঙ্গে আরও ২০টি এজেন্সি কাজ করবে। কোন দেশে কয়টি এজেন্সি শ্রমিক পাঠাবে তা নির্ভর করে চাহিদা সংগ্রহের ওপরে। আর চাহিদা সংগ্রহ এজেন্সিগুলোর কাজ।
দুই দেশের প্রাইভেট সেক্টরের কারণে জিটুজি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানান শামছুন্নাহার।
তিনি বলেন, এরপরেই প্রাইভেট সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহ. মুহসীন চৌধুরী। আরবএম সভাপতি ফিরোজ মান্না ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

basic-bank

Be the first to comment on "টিআইবির প্রতিবেদন বানোয়াট, মালয়েশিয়ায় কোনো সিন্ডিকেট নেই"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*