শিরোনাম

তুরস্কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক : তুরস্কের সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের কোনো আঘাত আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির শিক্ষার্থীরা। আর এই আশঙ্কা থেকেই দেশটির ইস্তাম্বুল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছেন, যা দেশটির শতশত বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইস্তাম্বুল হাই স্কুল দেশটির অভিজাত বিদ্যালয়গুলোর একটি।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তাদের প্রিন্সিপাল সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি এতোটাই অনুগত যে তিনি তাদের অধিকারগুলোর ব্যপারে একদমই উদাসীন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা যেন ২০১৩ সালের গেজি বিক্ষোভের মতো কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘দেশ খুবই গোলযোগময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এই অজুহাতে আমাদেরকে কনসার্ট করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ সরকার কিন্তু ঠিকই সম্প্রতি ইস্তাম্বুল বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে উৎসব করেছে। তাহলে আমাদের কর্মকাণ্ড কেন সীমিত করা হচ্ছে। এটা কি স্পষ্টতই একটি দ্বিচারিতামূলক আচরণ নয়?
ইতিমধ্যেই দেশটির ৩৭০টি বিদ্যালয় প্রায় রাজনৈতিক একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। টার্কি হাই স্কুল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (টিএলবি) ওই ঘোষণাপত্রটি তৈরি করেছে। এতে তারা তুরস্কের বিদ্যালয়গুলোতে ইসলামি মৌলবাদের বিস্তার প্রতিরোধে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে টিএলবি অভিযোগ করেছে, সরকার বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের ভলিবল টিম গঠনে বাধা দিচ্ছে। কারণ ভলিবল খেলতে গেলে মেয়েদেরকে সংক্ষিপ্ত পোশাক পরতে হয়।
টিএলবি নেতা বোরা সেলিক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়গুলোতে সরকারের মদদে সেক্যুলার ও মিশ্র শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গোপন আন্দোলন চলছে।
বোরা বলেন, ‘বিদ্যালয়গুলোতে কোনো সাহিত্য বা কাব্য চর্চার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যালয়গুলোতে নামাজের জায়গা বাড়তে থাকলেও গবেষণাগারের সংখ্যা কমে আসছে। আর এসব অপকর্মের বিরুদ্ধেই আমাদের এই আন্দোলন।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে তুরস্কের রাজনীতিতে শিক্ষা একটি দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এমনিতেই দেশটিতে বেশ কয়েক বছর ধরে সেক্যুলার ও ইসলামপন্থীদের মাঝে দুরত্ব ও বিভাজন বেড়ে চলছিল।
২০০২ সালে ইসলামপন্থী একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মূলত তুরস্কের সমাজে এই বিভাজনের শুরু হয়। একে পার্টির সরকারের সহযোগিতায় দেশটিতে ধর্মীয় বিদ্যালয়ের সংখ্যাও নাটকীয়হারে বাড়তে থাকে। একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে ধর্মীয় বিদ্যালয়েগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৯০ শতাংশ, প্রায় ১২ লাখেরও বেশি।
তুরস্কের শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এজিটিম-সেন এর নেতা কামুরান কারাচা অভিযোগ করেন, সেক্যুলার বিদ্যালয়গুলোকেও ধর্মীয় বিদ্যালয়ে রুপান্তরের চেষ্টা চলছে। তার আশঙ্কা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা আরো জটিল রুপ ধারণ করতে পারে।

basic-bank

Be the first to comment on "তুরস্কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*