নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৮টি ফেরির সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। নতুন ইঞ্জিন না কেনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন মেরামত করে সচল রাখা হচ্ছে ফেরি সার্ভিস। তবে এসব ইঞ্জিন অহরহ বিকল হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেরির ইঞ্জিনের মেয়াদ কোনটার এক দশক কোনটার দেড়যুগ পার হয়েছে। সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় আরও কয়েকটি ঘাটে ফেরির চাহিদা থাকলেও যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংকট নিরসনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে। এক বছরের মধ্যে নতুন ইঞ্জিন পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সওজ-এর ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের বরিশাল সার্কেলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শামসুল হক।
সওজ-এর বরিশাল সার্কেলের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল জেলায় লক্ষ্মীপাশা, গোমা, নেহালগঞ্জ, বেলতলা, মীরগঞ্জ ও বানারীপাড়ায় ছয়টি ফেরি রয়েছে। পিরোজপুর জেলার চরখালী, বেকুটিয়া ও আমড়াঝুড়িতে ফেরি চলাচল করছে তিনটি। পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী, বগা, গলাচিপা, পায়রাকুঞ্জ ও নলুয়াবাহেরচর মিলিয়ে ফেরি রয়েছে পাঁচটি। বরগুনা জেলার আমতলী ও বড়ইতলীতে দুইটি ফেরি চলছে। আর ঝালকাঠী জেলার ষাটপাকিয়া ও আমুয়াতে রয়েছে দুইটি ফেরি। এরমধ্যে লেবুখালী, চরখালী, আমতলী ও বেকুটিয়া ব্যস্ততম ফেরিঘাট। এ ঘাটগুলো দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই যানবাহন পারাপার হয়। এ ঘাটগুলোতে ৩১৫ অশ্বশক্তির ইউটি টাইপ-১ ফেরি রয়েছে। অপরগুলোয় ২০০ অশ্ব শক্তির ইউটি টাইপ-২ ফেরি চলাচল করছে।
ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দেয়া তথ্যমতে, ইংল্যান্ডে নির্মিত ফেরির ইঞ্জিন বেশিরভাগই ১৯৮০ থেকে ৮২ সালের মধ্যে আনা হয়েছিল। সাড়ে তিন দশক পার হওয়াতে ইঞ্জিনের সিলিন্ডার, পিস্টন, লার্নারে সমস্যা বেশি দেখা দিয়েছে। ২৫ বছর পার হলেই ইঞ্জিনের অশ্বশক্তি কমে আসে। এজন্য কখনও কখনও স্রোদের কিপরিদে কুলিয়ে ওঠে না। বাড়তি চাপ পড়ায় ইঞ্জিন সিস হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে ফেরি বিকল হয়।

Be the first to comment on "দক্ষিণাঞ্চলের ১৮টি ফেরির সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ"