নিউজ ডেস্ক : পৃথক মামলায় এক দশকের বেশি সময় ধরে বন্দি ২০ জনকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব মামলার নথিপত্র তলব করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।
এই ২০ জনের ১০ জনকে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ৫ জনকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ও অপর ৫ জনকে ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ১০ বন্দি কারাগারে থাকার বিষয়টি সোমবার হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি। সেই বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এইচ মো. নূরুল হুদা জায়গীরদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ১০ জনকে ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ১০ জনের মধ্যে এক হত্যা মামলায় মৌলভীবাজারের ফারুক হোসেন ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। অপর এক হত্যা মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিম মিয়া ২০০৫ সালে ২১ এপ্রিল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ২০০৩ সালের ৩ মার্চ থেকে আরেকটি হত্যা মামলায় একই কারাগারে আছেন রাজু জগন্নাথ, ২০০৩ সালের ৪ জুলাই থেকে এক হত্যা মামলায় একই কারাগারে আছেন বশির উদ্দিন। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এক মামলায় ২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে হাবিবুর রহমান, ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে মনিরুজ্জামান মুন্না, ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নাসির উদ্দিন এবং ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে গিয়াসউদ্দিন সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে আছেন।
এ ছাড়া হত্যা মামলায় মো. হায়দার আলী ১৯৯৮ সালের ১০ মার্চ থেকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে আছেন। আরেকটি হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে মো. রফিকুল ইসলাম রাজা পিরোজপুর জেলা কারাগারে আছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ রাজশাহী ও খুলনার ১০ বন্দির এক দশকের বেশি সময় বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকার বিষয়টি সোমবার হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী আনিচ উল মাওয়া।
মঙ্গলবার সেই বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১০ জনের জামিন প্রশ্নে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেন।
এই ১০ কারাবন্দির মধ্যে ২০০৪ সালের ১৮ মে থেকে পৃথক দুই মামলায় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন নজরুল ইসলাম। একটি হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১০ মার্চ থেকে একই কারাগারে আছেন সিরাজ। আরেকটি হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন আলম মিয়া। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এক মামলায় ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন মতিউর। একটি হত্যা মামলায় একই কারাগারে ২০০৬ সালের ১৩ মে থেকে আছেন ফয়েন।
এ ছাড়া আরেকটি হত্যা মামলায় ২০০৪ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে কাইলা কালাম পাবনা জেলা কারাগারে আছেন। ২০০৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে মো. আবদুল খালেক একটি হত্যা মামলায় নাটোর জেলা কারাগারে আছেন। নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক মামলায় ২০০৫ সালের ২২ জুলাই থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন অপূর্ব দাশ। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এক মামলায় ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট থেকে মো. তৈয়ব শেখ এবং আরেকটি মামলায় ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মো. সুমন খুলনা জেলা কারাগারে আছেন।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি ২০ জনের জামিন প্রশ্নে রুল

Be the first to comment on "দীর্ঘদিন কারাবন্দি ২০ জনের জামিন প্রশ্নে রুল"