নিউজ ডেস্ক : মাত্র কয়েকদিন পরই সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর এ পূজাকে সামনে রেখে নড়াইলে মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত নারী-পুরুষ সকলে মিলে তৈরী করছেন প্রতিমা।
পাশাপাশি মেলার জন্য তৈরী হচ্ছে হাড়ি-কড়াইসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র, বিভিন্ন খেলনা সামগ্রীসহ বিভিন্ন রকমের নানান রঙের জিনিষপত্র। একটাই উপলক্ষ শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্নস্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় এসব তৈরী জিনিস বিক্রী করা।
নড়াইল জেলার কুন্দশী, চোরখালি, জয়পুর, দিঘলিয়া, চালিতাতলা, কুরলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বিশেষ করে দূর্গাপূজা এলেই বেড়ে যায় এ শিল্পের সাথে জড়িতদের ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ।
পূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্নস্থানে বসবে মেলা। সেখানে বিক্রীর জন্য বাড়িতে মাহিলারা তৈরী করছেন নানান হাড়ি-কড়াই, পুতুল, আম, জাম, কাঠালসহ নানান রঙের খেলনা।
মৃৎশিল্পী মিলন পাল বলেন, আমরা প্রতিটি বছর এ সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকি। দূর্গাপূজা এলে আমাদের হাতে অনেক কাজ থাকে। সারা বছরের খরচ আমরা এখান থেকেই পেয়ে থাকি। ৪/৫ জনের এক একটি দল এই পূজার সময় ৭ থেকে ৮ টি পর্যন্ত মন্ডবে প্রতিমা তৈরী করে থাকি। এক একটি প্রতিমা তৈরী করতে, প্রকারভেদে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৪০/৫০ হাজার টাকাও আমরা পেয়ে থাকি।
মৃৎশিল্পী শিল্পী অপূর্ব জানান, মাটির জিনিষ তৈরী করে বিক্রি করি। বিশেষ করে পূজা এলে, আমাদের দম ফেলবার সময় থাকে না। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তবে যে পরিশ্রম করতে হয় সে অনুযায়ী আমাদের লাভ থাকে না।
মৃৎশিল্পী তপন কুমার পাল জানান, সারা মাস হাঁড়ি-পাতিল, সরা-কলস, খোড়া, দোনাসহ বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরি করা হলেও পূজা এলে প্রতিমা তৈরীর কাজ বেশি করা হয়। তবে প্রতিমা তৈরীর সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়। এ থেকে যা আয় হয় তাই দিয়েই চলতে হয়।

Be the first to comment on "নড়াইলে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা"