নিউজ ডেস্ক॥ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। গত ৯মার্চ থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ১৩ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা সফর কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এসএসসি পরীক্ষার দীর্ঘ ছুটির পর আবারও টানা ছুটি দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জনান, গত শনিবার শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিয়ে স্কুল ছুটি দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হন শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতা বলে সংরক্ষিত ছুটি দিয়ে এ প্রমোদ ভ্রমণে গিয়েছেন। সামনেই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ার কারণে প্রায় একমাস পাঠদান বন্ধ ছিল। এরপর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে সফরে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
সরেজমিনে, লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় জনশূণ্য, মূল ফটক খোলা থাকলেও ক্লাসরুমে তালা ঝুলছে। ছুটির বিষয়ে জানা না থাকায় স্কুলে উপস্থিত হওয়া এক শিক্ষার্থীকে ঘুরতে দেখে কথা হয় তার সাথে। ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী (সঙ্গত কারণে নাম প্রকাশ করা হল না) জানায়, ছুটির কথা জানা না থাকায় স্কুলে এসে কাউকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে সে।
এলাকাবাসীর কাছে জেনেছে শিক্ষকরা নাকি কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন সফরে গেছেন। স্কুল ছুটি দেয়ার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ হাসানুজ্জামান জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের নিকট থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমরা সফরে এসেছি। স্কুল বন্ধ থাকলেও পাঠ্যক্রম শেষ করতে সমস্যা হবে না। আগামী রমজান মাসে আমরা এই ছুটি সমন্ময় করে নেব।
তবে, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে প্রমোদ ভ্রমণে যাবার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের যে কোন সিদ্ধান্ত পরিচালনা কমিটি নিয়ে থাকে। ভ্রমনের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেছেন। উল্লেখ্য জেলার বাইরে কোন বনভোজন কিংবা সফরে গেলে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট থেকে লিখিত অনুমতির বিধান রয়েছে।
নড়াইল জেলা প্রশাসক আঞ্জুমান আরা বলেন, লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সফরে যাবার বিষয়ে অবহিত করেননি। লোহাগড়া শিক্ষা অফিসার হয়তো জানতে পারেন। তবে কর্মদিবসে টানা ছুটি না দিয়ে, যে কোন ছুটির দিনের সাথে সমন্ময় করে সফরে যেতে পারতেন। এক্ষেত্রে, তারা মোটেই দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি।
বিদ্যালয় বন্ধ করে’ প্রমোদ ভ্রমণে শিক্ষকরা!
বিদ্যালয় বন্ধ করে' প্রমোদ ভ্রমণে শিক্ষকরা!
Be the first to comment on "বিদ্যালয় বন্ধ করে’ প্রমোদ ভ্রমণে শিক্ষকরা!"