নিউজ ডেস্ক : বিজয়াদশমীর দিন নিউজিল্যান্ডের বিসর্জন যে নিশ্চিত সেটা আগেই বুঝে গিয়েছিলাম। ইনদওরেও নিউজিল্যান্ড চার দিনে যে ভেঙে পড়বে সেটা আন্দাজ করা কঠিন ছিল না। যে টিমে এই ফর্মের একজন রবিচন্দ্রন অশ্বিন থাকে, তাদের বিপক্ষকে দুমড়ে দেওয়া কী এমন বড় ব্যাপার?
দু’ইনিংস মিলিয়ে ১৩টা উইকেট, তার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসেই সাতটা, টানা চার নম্বর সিরিজ সেরা। অশ্বিনের এই ভয়ঙ্কর ফর্মেই পুড়ে ছারখার ব্ল্যাক ক্যাপস। বিরাট কোহালিদের তাই ৩২১ রানে ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ করাটা পুজোর কলকাতায় বৃষ্টির পূর্বাভাসের থেকেও আন্দাজ করা যেন সহজ ছিল।
ভারতের দাপুটে সিরিজ জয় দেখে অনেকেই আমাকে জি়জ্ঞেস করছেন বিরাটরা ইনদওরে এই যে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের গদা ফেরত পেল, সেটা সামনে দশটা হোম টেস্টেও ধরে রাখতে পারবে তো? অশ্বিন রোজ রোজ এ রকম পারফর্ম করতে পারবে তার গ্যারান্টি কী?
আমার মতে ভারতের অন্তত এক-দেড় বছর টেস্টের সিংহাসন থেকে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। পরের দশটা হোম টেস্টের মধ্যে আমার মতে অন্তত আটটা টেস্ট বিরাটরা জিতবে।
কেন বলছি কথাটা?
বলছি, কেননা ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানো মুখের কথা নয়। টার্নিং ট্র্যাকে অশ্বিন-জাডেজা, অমিত মিশ্রদের স্পিনের মোকাবিলা করা বিশ্বের যে কোনও ব্যাটসম্যানকে চ্যালেঞ্জে ফেলে দেবে। সেটা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে। তা ছাড়া অশ্বিন এই টিমের প্রধান স্ট্রাইক বোলার হলেও দলের অন্য বোলাররাও কিন্তু উইকেট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেটা এই সিরিজে দেখাও গিয়েছে। এটা এই টিমের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।
ব্যাটিংয়েও ঠিক তাই। কখনও বিরাট খেলে দিচ্ছে, কখনও রাহানে, কখনও পূজারা বা ঋদ্ধিমান, বা রোহিত। এই টিমের ব্যাটিংটা খুব স্ট্রং। ঋদ্ধি আট নম্বরে ব্যাট করতে নামছে সেটাতেই তো ব্যাপারটা স্পষ্ট। তাই টপ অর্ডার না পারলে লোয়ার অর্ডার ভাল রান করছে। সেখানেই পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে বিপক্ষের সঙ্গে।
তাই বলছি, এই টিমটাকে দেশের মাঠে হারানো কোনও টিমের পক্ষেই অত সহজ হবে না। স্পিনের কড়াইয়ে ভাজা তো আছেই, তার সঙ্গে একাই একশো অশ্বিনের ফর্মের কলার তোলা পারফরম্যান্স। বিরাটদের তাই টেস্টে এক নম্বরের আসন থেকে টলে যাওয়ার কোনও কারণ দেখছি না, অন্তত যত দিন না বিদেশের মাঠে ফের পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে!
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Be the first to comment on "বিরাটদের এক নম্বর আসন হারানোর ভয় এখনই নেই"