নিউজ ডেস্ক : দেশের তিন জেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
আজ মঙ্গলবার সকালে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে আমাদের জনকণ্ঠের সাংবাদিক টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ হতে প্রাপ্ত তথ্যে এ খবর জানা গেছে।
এর আগে সোমবারও তিন জেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলে ৩ জন
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় মারা গেছেন বাবা ও দুই ছেলে। আহত হয়েছেন আরও একজন। মধুপুর বনাঞ্চল এলাকার বেরবাইদ ইউনিয়নের মাগন্তিনগর পচারচনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ওই গ্রামের নিখিল ও তার পরিবারের সদস্যরা ভোরবেলা বাইরে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই বাবা ও দুই ছেলে মারা যান। নিহতরা হলেন নিখিল হাজং (৪৫), তার ছেলে জর্জ সিমসাং (১০) ও লোটন সিমসাং (৮)। এ সময় পরিবারের অপর সদস্য নিখিলের স্ত্রী জনতা সিমসাং আহত হন।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক এস কে তুহিন বলেন, জনতা সিমসাংয়ের শরীরের বেশির ভাগ ঝলসে গেছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছেন চিকিৎসকরা।
সুনামগঞ্জে ৬ জন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মারা গেছেন দুই ব্যবসায়ী। এছাড়াও মারা গেছেন তিনজন জেলে ও এক শিশু। সেই সাথে ৯ জন আহত হয়েছে।
দিরাই থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, মঙ্গলবার সকালে করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রাম থেকে কয়েকজন লোক নৌকায় করে চাপতির হাওরে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের শামীম মিয়া (৪০) ও তহুর মিয়া (৩৫)। তারা দুইজনই বাঁশ কেনাবেচা করতেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি জলিল।
এছাড়াও আহতদের মধ্যে হাফিজ আলীর ছেলে মোঃ হামিদ মিয়া, সাঞ্জব আলীর ছেলে রুবেল মিয়া, রহমত আলীর ছেলে মোঃ ফারুক মিয়া, আব্দুর হেকিমের ছেলে হুসেন মিয়া ও নিয়ামত আলীর ছেলে ছুরত মিয়া। আহতদের মধ্যে হামিদ মিয়া ও রুবেল মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
একই ইউনিয়নের টুকদিরাই গ্রামের আকিদুল্লাহর পুত্র সামরান হোসেন (৮) নামের এক শিশু বাড়ীর আঙ্গিনায় খেলা করার সময় বজ্রপাতে মারা যায়।
অপর দিকে একই সময়ে শাল্লা উপজেলার শ্রী-হাইল গ্রামের ভেড়ামোহনা হাওরে মাছ ধরার সময় শ্রী-হাইল গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র হৃদয় মিয়া (১৮) আক্কল আলীর পুত্র ইমন মিয়া(২০) হায়দার আলীর সাইনুল ইসলাম (২২) মাছ ধরতে গেলে তারা বজ্রপাতে মারা যায়। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জে ২ জন
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মারা গেছেন ছেলেসহ মা। আহত হয়েছেন মেয়ে।
করিমগঞ্জ থানার ওসি জাকির রাব্বানী বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গুজাদিয়া ইউনিয়নের করমসী গ্রামের কৃষক মারুফ মিয়ার বাড়িতে বজ্রপাত হয়।
নিহতরা হলেন মারুফ মিয়ার স্ত্রী ললিতা (৪০) ও তাদের ছেলে রিমন (১৫)।
বজ্রপাতে তাদের মেয়ে বিউটি (২০) গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওসি জাকির।

Be the first to comment on "বজ্রপাতে একই পরিবারের ৩ জনসহ ১১ জনের মৃত্যু"