শিরোনাম

মুন্সীগঞ্জে স্পীডবোট দুর্ঘটনা ॥ নিহত ২, নিখোঁজ ১

 

নিউজ ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের লৌহজং টার্নিংয়ে স্পীডবোট উল্টে লাবিব হালদার (১০) নিহত এবং তাহমিনা আক্তার (১২) নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের ৩শ’ মিটার দূরে অজ্ঞাত (৪০) নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাঝ বয়সী এই নারীর মাথার চুল কাচা পাকা। পরনে খয়রী রংয়ের বোরখা ও হলুদ সালোয়ার। গায়ের রং কালো। তবে লাশের পাশে একটি লাগেজ পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা রয়েছে পাসপোর্ট নং এএ ৯৮২১৬২৮, শামসুন্নাহার, সাভার, হোমায়েতপুর, ঢাকা। এছাড়া বেগটিতে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা রয়েছে বাকেলা, স্বামী এব রউফ শিকদার, মাতা আয়শা বিবি৪০ বিজলী মহল্লা, মোহম্মদপুর ঢাকা এবং স্থায়ী ঠিকানা আলফাডাঙ্গা , ফরিদপুর।  পুলিশ এই পাসপোর্ট নাম্বার, জাতীয় পরিচায়পত্র এবং ঠিকানায় তার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই নারীর নাম বাকেলা হতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধরানা করছে।

 

বুধবার বিকালের এই ১৮ যাত্রী নিয়ে স্পীডবোটটি ঝড়ের কবলে পরে। তবে বাকী যাত্রীরা অন্য স্পীডবোটে গন্তবে পৌছেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এই লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে আরও যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীরাও এমন আভাস দিয়েছে। এদিকে তাহমিনার খোঁজে এখনও চলছে স্থানীয়ভাবে এবং ফায়সার সার্ভিস ও নৌপুলিশের উদ্ধার তৎপরতা চলাচ্ছে। ফায়সার সার্ভিসের ডুবুরী দল দুর্ঘটনাস্থল এবং আশপাশে তল্লাশি চালাচ্ছে। মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাজমূল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত নারীর লাশটি ভাসতে দেখে তাহমিনার স্বজনরা পুলিশকে খবর দেয়। ধরানা করা হচ্ছে স্পীডবোর্ট দুর্ঘটনায় এই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বজনরা খবর না পাওয়ায় কেউ খুঁতে আসেনি।

এদিকে বুধবার রাতে ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত লাবিব মারা যায়। সে শরিয়তপুর জেলার ফুটিকঝুড়ি এলাকার জয়নাল হালদারের পুত্র। ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালের ওর্য়াড মাস্টার মো. সাজ্জাদ হোসেন লাবিবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এই দুর্ঘটনায় দাদীর ও ফুফাতো ভাইয়ের সাথে থাকা তাহমিনা নিখোঁজ রয়েছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় তাহমিনার খোঁজে পদ্মার দুর্ঘটনাস্থল ও আশ পাশ চষে বেড়াচ্ছে তাঁর স্বজনরা। এদিকে কন্যার নিখোঁজের সংবাদের পিতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাহমিনা ঢাকার কামারঙ্গীরচর বড়গাঁও বাসিন্দা ব্যবসায়ী মতি খাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাহমিনা কামারঙ্গীরচর ওয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। এক ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড়। তার দাদীর বোনের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার শরীয়তপুরে চিকন্দি গ্রামে যাচ্ছিল। শুক্রবার এই অনুষ্ঠান। পরে তার দাদী মজনু বেগম ও ফুফাতো ভাই মো. সুজন (২৫) চিকন্দি গ্রামে পৌচেছে।

মাওয়া ফাঁড়ির এসআই মো. নাজমুল ইসলাম জানান, বুধবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে মাঝিকান্দিগামী স্পীডবোট লৌহজং টার্নিংয়ে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে। সরু এই চ্যানেলে এ সময় স্পিীডবোট যাত্রীরা লাফিয়ে চরে নেমে পড়ে। এই সময় লাবিব আহত হয় এবং তাহমিনা নিখোঁজ হয়। তাহমিনাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে ঝর কমলে যাত্রীরা অন্য স্পীডবোটে করে গন্তব্যে ফিরে। তবে লাফিয়ে পড়ে এবং শীলা বৃষ্টিতে ঠান্ডায় লাবিব এবং তার মা মিসেস জয়নাল হালদার অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ অবস্থায় তাদের শিমুলিয়া ঘাটে আনা হয় অন্য স্পীডবোটে। পুলিশ প্রথমে শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠায়। সেখান থেকে তাকে ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় লাবিব মারা যায়। তবে তার মা এখন শঙ্কামুক্ত। শিমুলিয়া ঘাট দিয়েই ছেলের লাশ নিয়ে মা ও পরিবার পরিজন শরীয়তপুরে ফিরেন।

সিবোটটি ঝড়ের পর পরই উদ্ধার করে নিয়ে যায় মালিক পক্ষ। এটি কার বোট ছিল তা জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ প্রায় দেড় ঘন্টা তাহমিনাকে পদ্মায় খোঁজাখুঁিজ করে বলে নাজমূল জানান। এখনও চলছে খোঁজাখুঁিজ। তাহমিনার ভাগ্যে কি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত স্পীডবোটটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, স্পীডবোটটি নিয়ম কানুন না মেনে ঝুকিপূর্ণ চলাচল করছে। বহন করছে অতিরিক্ত যাত্রী। ব্যবহার করা হচ্ছে না লাইফ জ্যাকেট। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ রুটে তাই প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। রেজিস্ট্রেশনসহ স্পীডবোট চলাচলে কঠোর বিধির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। স্কুল ছাত্রী তাহমিনাকে উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

basic-bank

Be the first to comment on "মুন্সীগঞ্জে স্পীডবোট দুর্ঘটনা ॥ নিহত ২, নিখোঁজ ১"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*