নি্উজ ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বাহেরপাড়া এলাকার বৃদ্ধ বারেক মিয়ার (৯০) কোনো খোঁজ নেয়নি তার পরিবারের স্বজনরা। আদৌ তার কোনো ছেলে-মেয়ে আছে কিনা, তারও কোনো খোঁজ দিতে পারছে না স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন।
গত বুধবার (২৭ জুলাই) মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ডাস্টবিনে ময়লা খাওয়া অবস্থায় এই বৃদ্ধকে দেখতে পায় স্থানীয় জনতা। পরে তাকে হাসপাতলে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। ঘটনার পরপরই কয়েকটি অনলাইনে এ নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হলে শনিবার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন।
রোববার জেলা প্রশাসক সশরীরে উপস্থিত থেকে নগদ দুই হাজার টাকা ও জামাকাপড় প্রদান করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এসএম সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এসএম সাখাওয়াত হোসেন জানান, বৃদ্ধ বারেক মিয়া ব্রেনস্টোক করেছিলেন। তিনি প্যারালাইজড রোগী তাই তেমন কিছু বলতে পারেন না। জেলা প্রশাসক মহোদয় বৃদ্ধের সার্বিক দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া একজন অফিসিয়াল স্টাফকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি জানান, এমতাবস্থায় যতটুকু জানতে পেরেছি তার বাড়ি টঙ্গিবাড়ি উপজেলায়। পিতা মৃত আলী মোল্লা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বৃদ্ধের কোনো স্বজন বা ছেলে-মেয়ে তাকে খোঁজ করতে আসেনি।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তেমন কিছু আমার জানা নেই। পাঁচদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
এ অবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে বৃদ্ধের পরিবারের কোনো খোঁজ করেছে কি-না জানাতে চাইলে তিনি গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন চায়ের দোকানি মহিউদ্দিন ও হাসপাতালের স্টাফ মো. মাছুদসহ স্থানীয় আরো অনেকেই জানান, গত ২৪/২৫ জুলাই দুই যুবক এই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং ঘটনার দিন এক নারী তাকে নিয়ে যেতে আসে এবং হাসপাতাল থেকে বাইরে নিয়ে যায়।
এরপর বৃদ্ধকে ময়লার ডাস্টবিনের সামনে পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই নারী বা বৃদ্ধের কোনো স্বজনদের তাকে খোঁজ করতে দেখা যায়নি।

Be the first to comment on "ময়লা খাওয়া সেই বৃদ্ধের খোঁজ নেয়নি পরিবার"