নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি থেকে দুটি তরবারি চুরি হয়েছে।
কুঠিবাড়ির দ্বিতীয় তলায় রক্ষিত পাঁচটি তরবারির মধ্যে দুটি তরবারি চুরির ঘটনায় কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মখলেচুর রহমান।
গত বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় তরবারি চুরির এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন।
মখলেচুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার বিকেল ৫টায় অফিস শেষে অন্যান্য দিনের মতো কুঠিবাড়ির সবগুলো কক্ষসহ মূল ফটকে তালা লাগিয়ে খুলনা যাই। এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করেন লাইব্রেরিয়ান কাম কাস্টোডিয়ান বাকী বিল্লাহ।
“গত বৃহস্পতিবার সকালে খুলনায় থাকতেই এক সহকর্মী ফোন করে জানান দ্বিতীয় তলার ২০১ নম্বর কক্ষের আলমারিতে রক্ষিত পাঁচটি তরবারির মধ্যে দুটি নেই এবং আলমারির তালাটাও ভেঙে ঝুলছে।”
বিষয়টি কুমারখালী থানার ওসিকে এবং শিলাইদহে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে জিডি করেন বলে জানান তিনি।
চারদিকে সীমানা দেওয়া সুরক্ষিত এই ভবন। ঘটনার সময় প্রধান ফটকও সিলগালা করা ছিল। এছাড়া কুঠিবাড়ি চত্বরে স্থায়ী একটি আনসার ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও ১০ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। এরপরও কীভাবে তরবারি চুরি হলো তা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়েছে।
ঘটনার দিন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দুজন নিরাপত্তাকর্মীও পাহারায় ছিলেন।
এ ব্যাপারে আনসার ক্যাম্প কমান্ডার (পিসি) বাবুল মন্ডল বলেন, “আনসার সদস্যরা ডিউটি করে মূল ভবনের বাইরে। ভেতর থেকে কখন যে এই চুরির ঘটনা হয়েছে তা ঠিক বুঝতে পারছি না।”
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঘটনার সময় দায়িত্বরত লাইব্রেরিয়ান কাম কাস্টোডিয়ান বাকী বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমারখালী থানার ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, থানায় জিডি হয়েছে। চুরির ঘটনায় মামলা হবে। মামলার আগে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না।
“তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যাচ্ছে এ রকম একটি সুরক্ষিত জায়গা থেকে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে।”

Be the first to comment on "রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়িতে চুরি"