নিউজ ডেস্ক : ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী; বাস, ট্রেন আর লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে তাই ঈদফেরত মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ঈদের নির্ধারিত ছুটির বাইরে ১১ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় এবার ঈদে ছয় দিনের টানা ছুটি মিলেছে। আনুষ্ঠানিক ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার প্রথম কর্মদিবসেও ঢাকা ছিল ফাঁকা।
সেদিন ঐচ্ছিক ছুটি কাটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের অনেকেই পরিবার নিয়ে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছেন শুক্রবার থেকে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববার থেকে রাজধানী ঢাকা তার পুরনো চেহারায় ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সড়কপথে ফিরতিযাত্রার চাপ বেড়েছে। সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে গত দু দিনের তুলনায় বেশি বাস বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার সকালে কমলাপুর স্টেশনেও ঈদফেরত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বেলা ১২টায় স্টেশনে আসা নোয়াখালি এক্সপ্রেসে ছিল উপচেপড়া ভিড়। পরিপূর্ণ কামরার বাইরেও ট্রেনের ছাদ ও বগির করিডর ছিল ভিড়ে ঠাসা। ওই ট্রেনে ঢাকায় আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীর চাপ থাকলেও পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে তার আসতে অসুবিধা হয়নি। ঈদের ছুটি নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরলেন তিনি।
একই ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল, হাসিব ও বর্ষা। সামনে পরীক্ষা থাকায় ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ফিরেছেন বলে জানালেন তারা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ২২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে ১৮টি ট্রেন কমলাপুরে পৌঁছেছে। সবগুলো ট্রেনই যাত্রীতে ভরপুর ছিল।
বিভিন্ন ট্রেনে নতুন বগি সংযোজিত হওয়ার পর এবার ঈদযাত্রা ‘আরও নির্বিঘ্ন হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি। “মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা নামের দুটি ট্রেন নতুন করে যুক্ত হয়েছে এবার। পাশাপাশি চিত্রা, ধুমকেতু, সিল্কসিটিসহ আরও কয়েকটি কোচে বগি সংযোজিত হয়েছে। যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারছেন।”
ঈদের অবকাশ শেষে ঢাকামুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে বাস টার্মিনালগুলোতেও। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা হয়ে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে মোনাজ্জিল রিয়াদ। তিনি জানান, রাত ১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে উঠে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে ঢাকার পান্থপথে বাসায় পৌঁছে যান তিনি। “পথে কোনো যানজট ছিল না। প্রশস্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে যাত্রাবিরতি ছাড়া কোথাও তেমন ব্রেক করতে হয়নি চালককে,” বলেন মোনাজ্জিল।
একুশে পরিবহনের মহা ব্যবস্থাপক রফিকল ইসলাম জানান, শুক্রবার ঢাকায় ফিরতে অনেক যাত্রীই আগাম টিকেট কিনে রেখেছিলেন। সে অনুযায়ী তাদের বাসগুলো নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসছে।

Be the first to comment on "রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে"