নিউজ ডেস্ক॥ নড়াইলের লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (২১এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে পার-মল্লিকপুর গ্রামের মৃত মকিম মৃধার ছেলে নলকূপ মিস্ত্রি খায়ের মৃধা (৪০)কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি ছুড়লে ছয়জন আহত হয়েছে।
সরেজমিনে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের দুলাল ঠাকুর এবং হাসান বিশ্বাস,লিটু শেখ, হিমু ও জলিল পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। শনিবার ভোর ছয়টার দিকে পার-মল্লিকপুর ভ্যানস্ট্যান্ডের আসলাম মোল্যার চায়ের দোকানে চা খেতে এলে শুক্রবার ২০এপ্রিল কালিয়া বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর বিশ্বাস’র বাড়িতে ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায় হাসান বিশ্বাস পক্ষের আকরাম সরদার ও লিটু শেখ’কে মারধর করে প্রতিপক্ষরা। এরপর হাসান বিশ্বাস পক্ষীয় লোকজন প্রতিপক্ষের খায়ের মৃধাকে একই গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার বাড়ি থেকে ফেরার পথে তিন দফায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত খায়েরকে প্রথমে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, খায়ের মৃধাকে কোপানোর পর সকাল সাতটার দিকে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময়ে পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। খায়ের মৃধা মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি বর্ষন করলে সজিব (২২) নিয়ন (২২) আনিচ (২৪) সবুজ (২০) রিয়াজুল (২০) ও শিশু পিংকি (১০) সহ ছয়জন আহত হয়। এর মধ্যে সজিব শেখ’র অবস্থা গুরুতর। তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ ব্যপারে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে প্রথমে শর্টগানের ২০রাউন্ড ও পরে ৫রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে পুলিশের গুলিতে কেউ আহত হয়নি। কীভাবে তাঁরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ৬ ॥পুলিশের ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষন।"