নিউজ ডেস্ক॥ নড়াইলের লোহাগড়া থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহাসহ ১৩ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লোহাগড়া আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া এ মামলায় আসামী করা হয়েছে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নড়াইল সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মঞ্জুরুল মোর্শেদকে। মামলার অন্য আসামীরা হলেন-এসআই নয়ন পাটোয়ারী, এসআই শিমুল কুমার দাশ, এসআই নাছির উদ্দিন আকন্দ, এসআই মিহির কান্তি পাল ,এসআই শাহিনুর রহমান এবং এএসআই মাসুদুর রহমান, এএসআই তানভীর হোসেন, এএসআই আব্দুল হাকিমসহ চারজন পুলিশ কনষ্টেবকে।
মামলা ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭আগস্ট লোহাগড়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে ৩আগষ্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শেখ শরিফুল ইসলাম, কচুবাড়িয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা চালান। এ সময় কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ তার লোকজন শরিফুল ইসলামকে ধাওয়া দেয়। তিনি প্রান বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী বিবেকানন্দ (বিবেক) দাসের বাড়িতে আশ্রয় নেন। নির্বাচনী প্রচারনায় সাথে থাকা জাহাঙ্গীর ওরফে উজ্জলকে চেয়ারম্যান মতিয়ারসহ তার লোকজন ধরে বেধড়ক মারপিট করেন। ২টি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে মর্মে পুলিশ ও বিভিন্ন গনমাধ্যমকর্মীকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আস্ত্র-গুলিসহ জাহাঙ্গীরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। মেয়র প্রার্থী শরিফুলকে আটকের দাবীর মাধ্যমে মতিয়ার রহমান, পৌর নির্বাচনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষে রাত ১১টার দিকে তার নের্তৃত্বে কাশিপুর ইউনিয়নের প্রায় ২-৩’শ লোকজন দেশীয় আস্ত্র,লাঠি সোটা ও রামদা নিয়ে লোহাগড়া থানা ঘেরাও করে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে থানার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। থানায় রক্ষিত অস্ত্র-গোলাবারুদ ভান্ডার, সরকারী মালামাল ও নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পুলিশ ১৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি বর্ষনের মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ সময় থানার মুল ফটকের সামনে থেকে মতিয়ার রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেন। ইটের আঘাতে ৩ পুলিশ অফিসারসহ ৫পুলিশ সদস্য আহত হয়ে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামী করে ২১ জনের নাম ও অজ্ঞাতনামা ২’শ উল্লেখ করে ওই রাতে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ধৃত আসামীদের আদালতে প্রেরন করলেও চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান শারিরিক অসুস্থতার অজুহাতে আদালতকে ফাঁকি দিয়ে কৌশলে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে থাকাবস্থায় তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। মামলার ১৩ মাস পর গত ১৬ জুলাই মতিয়ার রহমানসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটির অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) প্রদান করলে বাদ সাধেন চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। তিনি প্রতি হিংসা পরায়ন হয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশের বিরুদ্ধে এহেন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার সাহা। এ বিষয়ে মতিয়ার রহমান বলেন, লোহাগড়া থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় মামলাটি দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা লোহাগড়া থানায় কর্মরত থাকায় ভয়ে তিনি মামলা করার সাহস পাননি বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।
লোহাগড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
লোহাগড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
Be the first to comment on "লোহাগড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা"