শিরোনাম

সাংবাদিক দীপঙ্কর হত্যায় রাজীব গান্ধীর ‘স্বীকারোক্তি’

নিউজ ডেস্ক : বগুড়ার দৈনিক দুর্জয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দীপংকর চক্রবর্তী হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বগুড়া পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
রাজীব গান্ধীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে আসাদুজ্জামান জানান, জেএমবি শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা শায়খ আবদুল আউয়ালের নির্দেশে সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। জেএমবি ও বাংলা ভাই নিয়ে লেখালেখি করার কারণে দীপঙ্কর চক্রবর্তীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে রাজিব গান্ধীসহ আরও ৩ জন অংশ নেন। অন্য তিনজন হলেন- মানিক, সানাউল্লা এবং নুরুল্লাহ।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বগুড়ার জহুরুল নগরে একটি মেসে বসে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যার আগের রাত ১০টায় মানিক মোটরসাইকেল দিয়ে সানাউল্লা ও নুরুল্লাহকে নিয়ে শেরপুরে যায়। এর আগে রাজীব গান্ধী বাসে সেখানে পৌঁছায়। রাজীব গান্ধীর দায়িত্বে ছিল দীপঙ্কর চক্রবর্তীর গতিবিধি লক্ষ করা, আর হত্যার দায়িত্ব ছিল সানাউল্লা ও নুরুল্লাহ। রাত ১২টার দিকে বগুড়া থেকে কাজ শেষে সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী শেরপুরে নেমে একটি হোটেলে চা খান। পরে বাসায় যাওয়ার পথে বাসার সামনে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে নাছির ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাস ওরফে জাহিদ ওরফে জাকির ওরফে আদিল ওরফে টাইগার ওরফে আবু ওমর আল বাঙ্গালকে (৩৩) গ্রেফতারের পর বগুড়া জেলার শেরপুর থানা পুলিশ জোয়ানপুরের জেএমবি আস্তানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাকে নিবিড় এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর সে ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
পুলিশ বলছে রাজীব গান্ধী তাদের জানায়, সে ২০০১ সালে জেএমবিতে যোগদান করে এবং ২০০৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সারোয়ার জাহান ওরফে মানিক তাকে হিজরত করতে বলে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলায় ডা. নজরুলের কাছে যায়। ডা. নজরুল তাকে একটি মেসে নিয়ে যায়। সেখানে শাহাদাত, মানিকসহ ৫-৬ জনকে দেখতে পায়। প্রায় ২ মাস উক্ত মেসে অবস্থান করেছিল। একদিন মানিক জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীকে বলে বগুড়ায় একটা কাজ করতে হবে। রাজীব গান্ধী তাতে রাজি হওয়ায় ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে মানিক তাকে সিরাজগঞ্জ হতে বগুড়া জহুরুল নগর এলাকায় ভাইবোন ছাত্রাবাসে নিয়ে আসে। ঐ মেসে সে নুরুল্লাহ, সানাউল্লাহ, রাহাত, শিহাব, ওসমানসহ মোট ১০-১২ জনকে দেখতে পায়। মেসে ৩টি রুম ছিল তার মধ্যে একটি রুম ফাঁকা ছিল। তারা ২ জন রাতে ঐ মেসে অবস্থান করে।
পরের দিন সকাল ১০টায় আব্দুল আওয়াল ঐ মেসে একজন ব্যক্তিসহ আসে এবং সেখানে একটি মিটিং হয়, সেখানে রাজীব গান্ধীসহ উক্ত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিল। উক্ত মিটিংয়ে আব্দুল আওয়াল আলোচনা করে যে, জেএমবি সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি এবং বিভিন্ন মিটিং এ জেএমবি কার্যক্রম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় সুরা সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ‘দুর্জয় বাংলার’ সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে। শায়খ আব্দুল আওয়াল সাংবাদিককে হত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনা করে।
সেই সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, নুরুল্লাহ, সানাউল্লা এবং মানিক মিলে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এরপর নুরুল্লাহ, মানিক চাপাতি দিয়ে সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে মটর সাইকেলযোগে তারা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, আব্দুল জলিল ও সনাতন চক্রবর্তী।

basic-bank

Be the first to comment on "সাংবাদিক দীপঙ্কর হত্যায় রাজীব গান্ধীর ‘স্বীকারোক্তি’"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*