শিরোনাম

পুলিশকর্মীর ছেলেকে খুন 

নিউজ ডেস্ক:রাস্তার পাশে বচসা হচ্ছিল তরুণ-তরুণীর মধ্যে। আচমকাই মাটিতে পড়ে ছটফট করতে শুরু করেন তরুণটি! শুক্রবার ভরসন্ধ্যায় দুর্গাপুরে কোক-ওভেন থানা থেকে সামান্য দূরে এই দৃশ্য দেখে ছুটে যান পথচলতি মানুষজন। আসে পুলিশও। তখনই খানিকটা দূরে সরে গিয়ে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দেন তরুণী।

বছর কুড়ির ওই তরুণ দেবজ্যোতি সাঁতরাকে গলার নলি কাটা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে জানানো হয়। মিঠু যাদব নামে ওই তরুণী হাসপাতালে ভর্তি। বর্ধমান শহরের একটি পলিটেকনিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র দেবজ্যোতি কোক-ওভেন থানারই সাব-ইনস্পেক্টর রঘুনাথ সাঁতরার ছেলে। মিঠু কুলটির নিয়ামতপুর ফাঁড়িতে সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান শুনে পুলিশের অনুমান, দেবজ্যোতিকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মিঠু। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি মিলেছে। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এসিপি (পূর্ব) সুব্রত দেব বলেন, ‘‘জেরায় জানা গিয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে কিছু গণ্ডগোল আছে। এ ছাড়া, অন্য কোনও কারণ আছে কি না দেখা হচ্ছে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথবাবু বছরখানেক আগে পর্যন্ত নিয়ামতপুর ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতেন। সেই সময়ে তাঁর মেয়েকে বাড়িতে পড়াতে আসতেন মিঠু। তাঁর মা-ও রঘুনাথবাবুর আবাসনে কাজ করতেন। দুর্গাপুরে বদলি হয়ে আসার সময়ে আবাসনের চাবি মিঠুদের দিয়ে আসেন রঘুনাথবাবু। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিয়ামতপুরে থাকাকালীন রঘুনাথবাবুর সঙ্গে মিঠুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দুর্গাপুরে চলে আসার পরেও তিনি মিঠুর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়। ইদানীং রঘুনাথবাবু মিঠুকে এড়িয়ে চলছিলেন।

পুলিশ জেনেছে, শুক্রবার বিকেলে মিঠু দুর্গাপুরে এসে ফোন করে স্টেশনে ডাকেন রঘুনাথবাবুকে। তিনি সেখানে গেলে দু’জনের বচসা বাধে। তার মধ্যেই মিঠু রঘুনাথবাবুর মোটরবাইকের চাবি কে়ড়ে নিয়ে স্টেশনের অদূরেই তাঁর আবাসনের দিকে রওনা দেন। কিন্তু, সেখানে পৌঁছনোর কিছুটা আগেই রাস্তায় তাঁর সঙ্গে দেবজ্যোতির দেখা হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বচসার মাঝে মিঠু ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে দেবজ্যোতির গলায় চালিয়ে দেন। পরে নিজেকেও জখম করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সন্ধেবেলা চেঁচামেচি শুনে বেরিয়ে দেখি এই কাণ্ড!’’ অটোচালক রামপ্রসাদ যাদবের কথায়, ‘‘অটো নিয়ে যাচ্ছিলাম। ওই ঘটনা চোখে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’’ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে মিঠু বলেন, ‘যা করেছি ঠিক করেছি’।

এত বড় ঘটনার পরেও শনিবার রাত পর্যন্ত রঘুনাথবাবুর পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ হয়নি। এ দিন আবাসনে গেলে রঘুনাথবাবু বা তাঁর স্ত্রী দেখা করতে চাননি। রঘুনাথবাবুর ভাই কার্তিকবাবু শুধু বলেন, ‘‘খবর পেয়ে এসেছি। কিছু বলতে পারব না।’’ হাসপাতাল সূত্রে খবর, মিঠুর গলায় অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশ জানায়, খানিকটা সুস্থ হলে তাঁকে জেরা করা হবে। মিঠুর মাকে জেরার জন্য নিয়ামতপুর থেকে দুর্গাপুরে আনা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘মিঠু সম্ভবত কিছু নিয়ে চাপ দিচ্ছিলেন। তারই হেস্তনেস্ত করতে দুর্গাপুরে এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

basic-bank

Be the first to comment on "পুলিশকর্মীর ছেলেকে খুন "

Leave a comment

Your email address will not be published.


*