শিরোনাম

বাংলাদেশে এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে লড়াইয়ে ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া

নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওল শেষ বারের মতো জ্বলে উঠেছিল ১৯৮৮তে অলিম্পিকের আসরে। তার পর সেই যে নিভল, সলতে উস্কানোর সুযোগ রইল না। সমালোচনার ঝড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি পার্ক গেউন হাই। বিরোধীরা বলছে, ২০১২তে লন্ডন অলিম্পিকের পর ব্রিটেন তরতরিয়ে কোথায় উঠে গেল। পদক তালিকায় এ বার দ্বিতীয়। আমেরিকার পরই। চিনের লম্ফঝম্প কমেছে। ব্রিটেনের থেকে তারা পিছিয়ে। তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে অনেক নীচে। গেউন হাই জানিয়েছেন, সিওল থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে গোয়াং জু’তে গড়ে উঠছে নতুন রাজধানী। অতীত ভুলে এবার নতুন যাত্রা। পূর্ব এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশ চিন, জাপানকে নিয়ে আর ভাবার দরকার নেই। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও মৈত্রী রাখা সম্ভব না। ১৯৯১তে তাদের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ চুক্তি হওয়ার পরেও ২০১০এ ‘টর্নেডো’তে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ জাহাজ চেওনাসনকে ডুবিয়েছে। সম্পর্ক বাড়াতে এ বার দক্ষিণ এশিয়ার দিকে নজর দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারায় আশ্চর্য অগ্রগতির দিকে তাদের বিশেষ নজর।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছেন গেউন হাই। বাণিজ্যিক জোটই লক্ষ্য। বাংলাদেশে লিকুফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল বসাতে তারা আগ্রহী। তাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা কো-গ্যাস বাংলাদেশে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে ঠিক হবে কাজটা তারা পাবে কিনা। এ প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী চিন আর ভারত। চিনের হুয়ামকিউ কস্ট্রাক্টিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন একই প্রকল্পের দাবিদার। ভারতের পেট্রোনেট নির্দিষ্টভাবে কুতুবদিয়ায় টার্মিনাল স্থাপনে জোর দিচ্ছে।
তিন সংস্থার প্রস্তাব বিবেচনা করছে পেট্রোবাংলা। নতুন টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব। কাজ শুরু হলেই সেটা হবে না। সময় লাগবে। কম করে চার থেকে পাঁচ বছর। আমেরিকার সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি আগেই হয়েছে। তারা সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি ইউনিট নির্মাণ করবে। জ্বালানি বিভাগ দু’টি, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি টার্মিনাল গড়বে জমিতে। জ্বালানি বিভাগের টার্মিনাল দু’টি মহেশখালি আর পটুয়াখাসির পায়রায় নির্মিত হবে।
ভারতের রিলায়েন্সও মহেশখালিতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। সেটা প্রাথমিক অনুমোদনও পেয়েছে। কুতুবদিয়ায় ভারতের পেট্রোনেটের টার্মিনাল তৈরির প্রস্তাবে ভাবনা চিন্তার অবকাশ আছে। জায়গাটা স্পর্শকাতর। নৌবাহিনী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষা। এমনিতে কোনও অসুবিধে না থাকলেও নিরাপত্তার কারণে বিষয়টি বিবেচনার স্তরে আছে। এলএনজি আমদানিতে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের মৌ সাক্ষরিত। দু’দেশের সম্পর্ক ভাল। দু’টি দেশই প্রায় একই সময় স্বাধীনতা পেয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় দিবস ১৯৭১এর ১৬ ডিসেম্বর। তার দুমাস আগে ১৯৭১এর ৩ সেপ্টেম্বর কাতারের স্বাধীনতা লাভ। ১৯৯৯তে কাতারে মেয়েরা ভোটাধিকার পায়। ২০০৫এর গৃহীত সংবিধানে সব ধর্মের স্বীকৃতি। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল ‘আল জাজিরা’ কাতার থেকেই সম্প্রচারিত। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২এ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করছে কাতার। সব দিক বিবেচনা করেই কাতারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আগ্রহী বাংলাদেশ।

basic-bank

Be the first to comment on "বাংলাদেশে এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে লড়াইয়ে ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*