শিরোনাম

নড়াইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরূদ্ধে দুর্ণীতি-অনিয়মের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুল হক এর বিরূদ্ধে দুর্ণীতি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তিনি ২০১৫ সালের ২৮জুন নড়াইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর এ অফিসটি দুর্ণীতি অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কতিপয় দুর্ণীতিবাজ শিক্ষক নেতা ও এক অফিস কর্মচারীর সহযোগিতায় একের পর এক নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা ধরনের অনিয়ম করে চলেছেন। অভিযোগ রয়েছে চাহিদা মত টাকা না পেলে তিনি নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সীটে সাক্ষর করেন না। একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, টাকা ছাড়া তার অফিস হতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তির কাগজপত্র ছাড় হয় না। নিয়োগ, টাইমস্কেল,বিএড স্কেল এর তথ্যাদি তার আইডি তে প্রেরণ করে তার নিকট বার বার ধরনা দিলেও তিনি তা উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাতে নানা রকম তাল বাহানা করেন। তবে নির্ধারিত পাওনা হাতে পেলে দ্রুত কাজ হয়। নিজেকে অনেক জ্ঞানী গুণি,ক্ষমতাধর সৎ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অথচ মোবাইল ধরতে চান না। কোন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের প্রিজাইডিং হিসেবে নিয়োগ পেলে তার বাবুয়নাগিরির শেষ থাকে না। সারা বছর মোটর সাইকেলে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু ভোটের দিন তাকে প্রাইভেটে নিতে হয়। নাস্তা, খাবার ও সম্মানী সবকিছুই একটু বেশি করেই দিতে হয়। শিক্ষকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে নিজে লাভবান হতে তিনি অত্যন্ত পটু। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক কর্মচারীর একটু ত্রুটি পেলেই তিনি মহাখুশি। বেশ আয়োজন করে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ডেকে প্রথমে নিজের বিদ্যা বুদ্ধি জাহির করেন। এরপর অপরাধের কাফফারা আদায় করে ছেড়ে দেন। তাবলীগ ও অসুস্থতার অজুহাতে প্রায়ই বাইরে থাকেন। ঠিকমত অফিস না করায় শিক্ষকরা চরমভাবে হয়রানী হন। তারপরও ভয়ে শিক্ষকরা চুপ থাকেন। নড়াইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর পরই তিনি অফিসের সরকারি মোটরসাইকেলটি গ্রামের বাড়ি রেখে এসেছেন। মোটরসাইকেলটি তার বাড়ির লোকজন যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করে এবং অযতœ অবহেলায় রেখে জরাজীর্ন করে ফেলেছেন। সরকারি আদেশের কোন চিঠিই তিনি অফিস হতে সরবরাহ করেন না। প্রত্যেকটি চিঠির কপি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনের জামান ফটোষ্ট্যাট বা মিতালী ফটোষ্ট্যাটে রেখে দেন। এরপর শিক্ষকদের অফিসে ডেকে চিঠি গ্রহনের সাক্ষর নিয়ে জামান ফটোষ্ট্যাট অথবা মিতলী ফটোষ্ট্যাট হতে নিজ খরচে ফটোকপি করে নেয়ার নির্দেশ দেন। তার কথামত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজ খরচে প্রত্যেকটি চিঠি ফটোকপি করে নিতে হয়। এনিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে তার বচসা হয়েছে। তারপরও তিনি শিক্ষকদেরকে ফটোকপির দোকানে পাঠানো অব্যহত রেখেছেন। এ নিয়ে শিক্ষক মহলে তীব্র অসন্তোষ চলছে। অথচ অফিসে ২ টা নতুন ফটোষ্ট্যাট ম্যাশিন রয়েছে। তার রুঢ় আচরনের কারনে শিক্ষক কর্মচারীরা নিজের টাকা দিয়ে লাইনে দাড়িয়ে চিঠি ফটোকপি করে নিতে বাধ্য হয়। ফটোষ্ট্যাটের দোকানে গিয়ে চিঠি ফটোকপি করে নিতে কেউ আপত্তি করলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী ও অপদস্ত করেন। সরকারি বই বিতরনের সময় প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অফিস কর্মচারীদের মাধ্যমে ৩শ থেকে ৫শ টাকা উৎকোচ নেন। সরকার প্রদত্ত বই প্রেরন খরচ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে উল্লেখিত বই পরিবহন খরচ রেজিষ্ট্রারে স্ট্যাম্প লাগিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক’র সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন সব মিথ্যা-ভিত্তিহীন । বিষয়টি আরেকটি পেপারে লেখা আসছে আমি দেখেছি।

basic-bank

Be the first to comment on "নড়াইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরূদ্ধে দুর্ণীতি-অনিয়মের অভিযোগ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*