শিরোনাম

লোহাগড়ায় ওয়াজ মাহফিলের নামে আনা জিআর প্রকল্পের ১০ কোটি টাকার চাল আত্মসাত

লোহাগড়ায় ওয়াজ মাহফিলের নামে আনা ১০ কোটি টাকার চাল আত্মসাত

নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জিআর প্রকল্পের বিশেষ বরাদ্দ এনে পুরোটাই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দের আংশিক কাগজ ও দূর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায় উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ৮৬৮ টি প্রকল্পের অনুকুলে ৩৩৯১ মেট্রিকটন চাল বিশেষ বরাদ্দ আনে উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুর আমির লিটু, নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু, নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী গ্রামের খন্দকার সাহেব আলী, লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নজরুল ইসলাম ,কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান,শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান লাবু মিয়া, ইতনা গ্রামের মামুন শেখ, দিঘলিয়া ইউনিয়নের মামুন, লাহুড়িয়া ইউনিয়নের জিয়াউর রহমান রুনুসহ আ’লীগের কয়েকজন নেতা পারস্পারিক যোগসাজসে প্রতি অর্থ বছর অনুরুপ প্রকল্পের বরাাদ্দ বিষেশ ভাবে পাশ করে, হজম করেন।

বিশেষ বরাদ্দের এসব চাল বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের নামে পুরোটাই হজম করে ফেলা হয়েছে। পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে সরেজমিনে প্রকল্পের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বাস্তবায়নের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। কাশিপুর গ্রামে প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, সদস্য রওশন কাজী ও রবিউল ইসলামের রোষানলে পড়তে হয়। সারা দেশে জঙ্গি হামলায় সরকার যখন মসজিদে খুৎবা পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছে, জঙ্গি দমন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ব্যাস্ত, ঠিক তখন লোহাগড়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে আসা হয়। চাল উত্তোলনে ভূয়া পেআইসি ও মাষ্টাররোলে আতœসাতের ঘটনায় নড়াইল জেলা ও লোহাগড়া উপজেলা আ’লীগ সভাপতি সহ অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এসব চালের বাজার মূল্য প্রায় ১০ (দশ) কোটি টাকা। প্রকল্প চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সাথে আলাপ করে দেখা গেছে বিশেষ বরাদ্দের চাল বিশেষভাবেই হজম করা হয়েছে। হজমের ধরনটা নেতাকর্মীদের হাসির খোরাকে পরিনত করেছে। কোনো কোনো গ্রামের এক পাড়ায় দেখানো হয়েছে ১২ থেকে ১৫টি,এমনকি একই বাড়িতে বড় ভাই,ছোট ভাই, চাচা, ভাতিজা,চাচাতো ভাই সকলের নামে তাদের বাড়ির পাশে একইদিনে ওয়াজ মাহফিল দেখানো হয়েছে। ইতনা ইউনিয়নের চরদৌলতপুর একটি মন্দিরকে ঘিরে ৯বার নামযজ্ঞানুষ্টান দেখানো হয়েছে। দৌলতপুর মদনমোহন নাট মন্দির পরিচালনা কমিটির, প্রবীর কুমার সাধুকা ও পারিজাত সাহা জানান, শুধুমাত্র নাট মন্দিরে বছরে একবার নামযজ্ঞানুষ্টান হয়ে থাকে, এবং সেটা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে,সরকারি কোন বরাদ্দ আসেনা ।

প্রতিটি ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞের নামে বরাদ্দ ২ থেকে ৩ মেট্রিকটন করে চাল। আবার একজনকেই দেখানো হয়েছে ১৫ থেকে ২০টি প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে। প্রকল্প চেয়ারম্যানরা জানেনা তাদের নামে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের শ’খানেক মন্দির ছাড়া সবগুলোই বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের মাষ্টার রোল দাখিল করা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে। নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের কলাগাছি উত্তমের বাড়ির কালি মন্দিরের সামনে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল, রায়গ্রাম মিত্র বাড়ির দূর্গা মন্দিরের সামনে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল, পৌরসভার রামনারায়ন পাবলিক লাইব্রেরির সামনে জিউর মন্দির ওঠানে ওয়াজ মাহফিল, লোহাগড়া কমিউনিটি সেন্টারের পশ্চিম পাশে দুই বছর পানিতে তলিয়ে থাকা রথখোলা মাঠে ওয়াজ মাহফিল (যেখানে মাছের ঘের), কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব শতভাগ মুসলিমের বসবাস, গন্ডব ধনী বাড়ির জামে মসজিদের সামনে নামযজ্ঞানুষ্ঠান (যেখানে কবরস্থান) প্রশান্ত মালাকার, কার্তিক ঘোষ, মহিউদ্দিন,মফিজুর রহমান,প্রত্যেককে ১৫-২০ টি করে প্রকল্পের সভাপতি দেখানো হয়েছে তারাসহ উপজেলার অধিকাংশ লোক জানেনা প্রকল্পের কথা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল,ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিবৃন্দের স্বাক্ষর সত্যায়িত করেছেন অথচ তারা বলছেন এই স্বাক্ষর তাদের না’ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন জুনের ২৯-৩০ এই দুই দিনে সব কাজ করতে যেয়ে কিছু ভুল হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে লুটপাটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা বলেন, জুন মাসের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে সব স্বাক্ষর করতে হয়েছে, যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি, ভুল ভ্রান্তি হতে পারে। ভবিষ্যতে যাচাই বাছাই করে প্রকল্প দেওয়া ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন,সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী অফিসার এগুলো তদারকি করেন। আমার কাছে অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি নিয়ে এডিসিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

basic-bank

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় ওয়াজ মাহফিলের নামে আনা জিআর প্রকল্পের ১০ কোটি টাকার চাল আত্মসাত"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*