শিরোনাম

মাদক চক্রের মহারানি এই সুমিতা

নিউজ ডেস্ক : জোধপুরের বোরানাদায় বড় রাস্তা থেকে সামান্য একটু ভেতরে গেলেই চারতলার চোখ ধাঁধাঁনো সেই প্রাসাদটা চোখে পড়ে সকলের। যার নিচতলায় সার দিয়ে দাঁড় করানো থাকে ঝাঁ-চকচকে সব বিলাসবহুল গাড়ি। বাড়ির গেটের বাইরে দিনরাত সেগুলো আসছে-যাচ্ছে। কিন্তু মিশুকে এবং নম্র স্বভাবের সুমিতা দেবীর এই প্রতিপত্তি নিয়ে কোনোদিন কারো মনে সন্দেহ দানা বাঁধেনি। আশপাশের সকলই জানেন, তাঁর বড়সড় ব্যবসা রয়েছে। ফলে টাকা-পয়সার অভাব নেই। তা সেই সুমিতা দেবীর হাতে হাতকড়া পরিয়ে বৃহস্পতিবার যখন তাঁর বাড়ি থেকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে তখন সকলেই এক্কেবারে ‘থ’।
পুলিশের কানাঘুষাতে জানা গেল যে, সে ব্যবসা নয়, আপাতদৃষ্টিতে একেবারে ছাপোষা ওই নারী আসলে রাজস্থানের সবচেয়ে বড় মাদক চক্রের চাঁই! পুলিশের জালে ধরা পড়েছিল ওই নারীর এক কর্মচারী। এর পরেই গ্রেপ্তার করা হয় নারীকে। জোধপুর পুলিশ জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী ওই নারীর নাম সুমিতা বিশ্নোই। বাড়ি জোধপুরের বোরানাদায়। তাঁর অধীনে কাজ করেন কয়েকশ’ পুরুষ এবং নারী।
তিন দিন আগে মাদক পাচার করার সময় এক নারীসহ দু’জনকে পাকড়াও করে জোধপুর পুলিশ। তাদের জেরা করেই জানা যায় সুমিতার নাম-ঠিকানা। এর পরই ৫০ জনের পুলিশের একটি দল সুমিতার ঠিকানায় পৌঁছায়। তাঁর বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাজ্জব হয়ে যায় পুলিশ অফিসারও। বিশালাকার চারতলার সেই কাঠামোকে বাড়ি বললে ভুল হবে। নামী-দামি আসবাব সুসজ্জিত সেই বাড়িকে আসলে একটি অট্টালিকাই বলা চলে। যার নীচের তলায় রয়েছে লাক্সারি গাড়ির সারি। মাদক পাচার করার জন্য এই গাড়িগুলিকেই ব্যবহার করেন সুমিতা। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৭৫ গ্রাম মাদক, একটি জিপিএস সিস্টেম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ছ’বছর আগে অবশ্য তাঁর জীবনটা ছিল একেবারে অন্য রকম। তখনও তিনি সুমিতা বিশ্নোই হয়ে ওঠেননি। আত্মীয়-পরিজনদের কাছে তিনি সুনিতা নামেই পরিচিত ছিলেন। স্বামী গাড়ি চালিয়ে যা উপার্জন করতেন তাতেই দিন কেটে যেত তাঁদের। ঘরকন্না ছাড়া আর কোনো কাজ ছিল না তাঁর। এর পরের কাহিনীটা অনেকটা সিনেমার মতো। সিনেমার মতোই তাঁর জীবনেও একটি নতুন মোড় আসে। স্বামী কাজ পেয়ে চলে যান কর্নাটকে। পরিচয় হয় রাজুরাম ইকরাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। রাজুরাম মদ এবং মাদক পাচার চক্র চালাত। তার হাত ধরেই এই দুনিয়ায় প্রবেশ সুমিতার। পরিচয় গোপন রাখতে নিজের নাম বদলে সুনিতা থেকে হয়ে যান সুমিতা।
এর ঠিক এক বছর আগে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাজুরাম। ছাড়াও পায়। কিন্তু তার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় রাজুরাম। ব্যস, তখন থেকেই গোটা রাজস্থান জুড়ে মাদক পাচার চক্রের দায়িত্ব এসে পড়ে সুমিতার কাঁধেই। বাড়ি থেকেই এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের বেশ কিছু জায়গায় মাদক পাচার করে থাকেন তিনি। দিনে দিনে ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে সুমিতার সংসার। তাঁদের এক কামরায় বাড়ি বদলে যায় চারতলার বিশাল অট্টালিকায়।
সূত্র: আনন্দবাজার

basic-bank

Be the first to comment on "মাদক চক্রের মহারানি এই সুমিতা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*