নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর কাফরুলের একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মানব কঙ্গাল উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাড়িটির অন্তত আট জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একজনকে আটক করেছে। যাদের ফ্ল্যাট থেকে কঙ্গালগুলো উদ্ধার হয়েছে, তারা নিজেদের মেডিকেল কলেজের ছাত্র বলে দাবি করেছেন। তাদের এমন দাবির সঙ্গে বাড়িতে কঙ্গাল মজুদ করার কোন যোগসূত্র আছে বা বৈধতা আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন পূর্ব কাজীপাড়ার ইটখোলা বাজারের কাছে ১৮৩/১ নম্বর বাড়ি থেকে মানব কঙ্কালগুলো উদ্ধার হয়। বাড়িটির দ্বিতীয় তলা থেকে কঙ্গালগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ এ ঘটনায় নুরুজ্জামান ওরফে কামরুজ্জামান নামে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ জানান, বহুতল ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে কার্টনভর্তি মানব কঙ্কালগুলো উদ্ধার হয।
বাড়িটির মালিক ইলিয়াস সাইফুল্লাহ জানান, বাড়িটির ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি গতমাসে নুরুজ্জামান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসক পরিচয়ে ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরের আগে বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বিকট গন্ধ পেয়ে দ্বিতীয় তলার দরজায় নক করেন। তবে ভাড়াটিয়া নুরুজ্জামান দরজা খুলতে দেরি করেন। কিছুক্ষণ পর দরজা খুললে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সেখানে কার্টনভর্তি কঙ্কাল দেখতে পান।
এরপর ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বিষয়টি তাকে জানান। তিনিই পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে মানব কঙ্কালগুলো উদ্ধার করে। নুরুজ্জামানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তিনি পুরনো ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয়ে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তার সঙ্গে আরও দুজন কর্মচারীও ছিল। তবে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে তার সব তথ্য দেওয়া আছে। কাফরুল থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম জানান, পুলিশের তরফ থেকে সরবরাহকৃত ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরমের তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যেও পার্থক্য রয়েছে। ভাড়াটিয়ার নাম ঠিক থাকলেও অন্যান্য কিছু তথ্যে গড়মিল রয়েছে। ভাড়াটিয়ার নাম কামরুজ্জামান। তার বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ২৬ বছর। সে ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। তার পরিচয় আরও যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
বাড়িওয়ালা জানান, কামরুজ্জামানকে প্রায়ই খাবারের কার্টন নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে দেখেছেন। কার্টনে খাবার থাকতো বলেই তার এতদিন বিশ্বাস ছিল। কারণ কামরুজ্জামানের রাজধানীর শ্যামলীতে একটি খাবারের হোটেল রয়েছে। কার্টনে করে খাবারের জিনিসপত্রই নিয়ে আসতো বলে তার ধারণা ছিল। আবার কামরুজ্জামানের কেমিক্যালের ব্যবসা রয়েছে বলেও শুনেছি।
কাফরুল থানার ওসি শিকদার শামীম হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে আটককৃতের নাম কামরুজ্জামান বলে জানা গেছে। সে মেডিকেলে শেষ বর্ষের ছাত্র। তার সহপাঠীরা ওই কঙ্কালগুলো তার কাছে রাখতে দিয়েছে। যার যখন প্রয়োজন সে তা নিয়ে যেতো। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫টি কঙ্গাল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব কঙ্কাল কিভাবে যোগাড় করেছে এবং কাদের মাধ্যমে যোগাড় করেছে সে সর্ম্পকে কোন সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য মেলেনি। বিষয়টি জানতে কামরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। বাড়ির মালিক ইসমাইল হোসেনসহ অন্তত আট জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করার কাজ চলছে।

Be the first to comment on "রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ মানব কঙ্গাল উদ্ধার"