নিউজ ডেস্ক ॥ নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদর খন্দকারকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দুর্বৃত্তরা উপজেলার টি চর-কালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে বিকাল ৪টায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় নিহতের স্ত্রী, দু’সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় আশপাশের বাতাশ ভারি হয়ে ওঠে।
বিকাল সাড়ে ৫টায় টি চর-কালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহতের নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযায় নড়াইল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, লোহাগড়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ুর রহমানসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার কয়েক হাজার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারসহ এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, এ হত্যাকান্ডে ব্যবসায়িক দ্বন্ধ ও প্রায় দু’বছর আগে কালনা ফেরি ঘাটে পল্টুনের ওপর ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে চর-বগজুড়ি গ্রামের মৃত ইয়াছিন শেখের ছেলে ফরিদ, পিকুল ও নজরুল শেখ, চর-কালনা গ্রামের আবু বক্কর খোকা’র ছেলে রবিউল ইসলাম তারু ও মুন্না মোল্যা, একই গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আকরাম উদ্দিন, বাবর আলী মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা ও ছাগলছেড়া গ্রামের ছত্তারের ছেলে সুরুজ গং এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্দেহ ভাজন আসামীরা গা-ডাকা দেওয়ায় অধরা রয়েছে।
উল্লেখ্য: গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার উপজেলার টি-চর কালনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ধারালো ছ্যান দা, দিয়ে বদর খন্দকারকে উপর্যুপরি কুপিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পথিমধ্যে রাত সোয়া ৯টার তিনি মারা যান।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের লোকজন এখনো মামলা দাখিল করেন নাই। মামলা হলে তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বদর হত্যা ॥ পরিবারে শোকের মাতম"