নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরায় খালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি কোনো সাধারণ সন্ত্রাসীদের নয়। বড় ধরনের নাশকতার জন্য এগুলো মজুদ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে উত্তরার খাল থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এগুলো উদ্ধার না হলে দেশে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো। এমনকি যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, জ্বালাও-পোড়াও করে, তারাই এ অস্ত্র রেখেছিল বলেও জানান তিনি। এমনকি ওই অস্ত্রের ‘প্রকৃত মজুদদারদের’ খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শক্তির মদদে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অস্ত্র ও গুলি এনে মজুদ করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের বিশেষ অভিযানে নির্জন জায়গায় অস্ত্র ও গুলি ফেলে দেওয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এ ধরনের অস্ত্র পুলিশই ব্যবহার করে। তবে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্রে নির্মাণকারী দেশের নাম লেখা থাকে। উদ্ধার করা অস্ত্রে কোনো দেশের নাম ছিল না। শুধু সিরিয়াল নম্বর রয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা জানতে তদন্তে জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তদন্ত করবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় রাজধানীর তুরাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশের যতটুকু মেধা, সামর্থ্য ও যোগ্যতা রয়েছে পুলিশ খুঁজে বের করবে কারা, কেন- এই অস্ত্রগুলো মজুদ করেছিল।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিনার মনিরুল ইসলাম, ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ১৬ নম্বর সেক্টরে বৌদ্ধ মন্দির পাশের একটি খাল থেকে ৯৭টি পিস্তল, ৭ পয়েন্ট ৬২ বোরের গুলি ২২০ রাউন্ড, ৯এমএম পিস্তলের গুলি ৮৪০ রাউন্ড, পিস্তলের ম্যাগাজিন ১৯৯টি, ২৬৩টি এসএমজির ম্যাগাজিন, ১০টি বেয়নেট ও ১০৫টি গুলি তৈরির ডাইস উদ্ধার করা হয়।

Be the first to comment on "বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে উত্তরায় অস্ত্র মজুত: ডিএমপি"