নিউজ ডেস্ক : অবশেষে জেল থেকে ছাড়া পেতে চলেছেন সিওয়ানের প্রাক্তন সাংসদ তথা আরজেডির বাহুবলী নেতা মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। আজ পটনা হাইকোর্ট থেকে অ্যাসিড হত্যাকাণ্ড মামলায় জামিন পাওয়ার পরেই জেল থেকে তাঁর ছাড়া পাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার হয়েছে। ২০০৩ থেকে টানা ১৩ বছর জেলবন্দি রয়েছেন এই বাহুবলী নেতা। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মুক্তিকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম বিহারের রাজনীতি। বর্তমানে ভাগলপুর জেলে বন্দি রয়েছেন সাহাবুদ্দিন। আইনি জটিলতায় প্রায় ৩৭টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলেও সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
আশির দশকের শেষ দিকে বিহারের সিওয়ান জেলায় উত্থান সাহাবুদ্দিনের। খুন, তোলাবাজি, অপহরণ, নানা অভিযোগে অভিযুক্তকে ১৯৯০ সালে জনতা দলের টিকিটে বিধানসভা ভোটে দাঁড় করান লালুপ্রসাদ। সেই নির্বাচনে জিতেই বিধানসভায় প্রবেশ সাহাবুদ্দিনের। এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাননি। পরপর দু’বার বিধানসভায় জেতার পরে ১৯৯৬ সালে জনতা দলের টিকিটে লোকসভায় যান তিনি। ১৯৯৭ সালে জনতা দল ভেঙে গেলে লালুপ্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দলে যোগ দেন সিওয়ানের সাংসদ। টানা চারবার সিওয়ান কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০০৯ সালে ভোটে দাঁড়াতে পারেননি সাহাবুদ্দিন। তবে নিজের কেন্দ্রে স্ত্রী হিনা সাহিবকে দাঁড় করিয়ে দেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী ওমপ্রকাশ যাদবের কাছে হেরে যান হিনা। এলাকায় কিন্তু প্রভাব এতটুকু কমেনি সাহাবুদ্দিনের।
অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনে জেল থেকেই কলকাঠি নেড়েছেন তিনি। নিজের অনুগামীদের টিকিট পাইয়ে দেওয়া থেকে ভোটে জেতানোর মেশিনারি, সবেতেই কাজ করেছে ‘টিম সাহাবুদ্দিন’। নির্বাচনের সময়ে কমিশন অবশ্য ‘গোলমালের আশঙ্কায়’ সাহাবুদ্দিনকে সিওয়ান জেল থেকে ভাগলপুরের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। নির্বাচন শেষ হতেই সিওয়ান জেলে ফিরে আসেন সাহাবুদ্দিন। ফের সাংবাদিক রাজদেও রঞ্জন হত্যাকাণ্ডের পরে সিওয়ান থেকে ভাগলপুর জেলে পাঠানো হয় তাঁকে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
তেরো বছর পরে মুক্তি বাহুবলী সাহাবুদ্দিনের

Be the first to comment on "তেরো বছর পরে মুক্তি বাহুবলী সাহাবুদ্দিনের"