নিউজ ডেস্ক : ভারতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। কানপুরের কাছে স্থানীয় সময় রবিবার ভোর রাত ৩টায় ইন্দোর-পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হলে অন্তত ১৪২ জন প্রাণ হারায়।
উদ্ধারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোর কাছে এখনো পৌঁছাতে পারেনি। সেখানে আরো কিছু লাশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। যদিও রেললাইনে ফাটলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোকে বলা হচ্ছে। ভারতে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির রেললাইনের বেশ কিছু অংশ সেকেলে। সোমবার ভোরে রেল মন্ত্রণালয় আহত যাত্রীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে।
তালিকার ১৩১ জনের মধ্যে ৫৮ জনকে ‘গুরুতর আহত’ বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এর আগের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, ১৫০ জনের বেশি লোক আহত হয়েছে। ইঞ্জিনের পেছনের প্রথম দুটি বগি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বগিগুলো দুমড়ে মুচড়ে গেছে। হতাহতদের অধিকাংশই এই দুটি বগির যাত্রী। প্রচন্ড গতিতে চলা ট্রেনটির দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ লাইন থেকে ছিটকে যায় এস-১ বগি। এরপর পেছন থেকে অপর বগিগুলো প্রচ- গতিতে একটি অপরটিকে ধাক্কা দিতে থাকে। উদ্ধার তৎপরতায় ধাতব কাটার, চর্ট লাইট ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোর সাহায্যে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বগিগুলো খুলে মানুষকে বের করে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এখন ভারতে অধিকাংশ ট্রেনে যে বগি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো হলো এলএইচবি (লিঙ্ক হফম্যান বুশ) ধাঁচের। জার্মান প্রযুক্তিতে বানানো ওই বগিগুলো লাইনচ্যুত হলে একটি আরেকটির পিছনে ঢুকে যাওয়ার পরিবর্তে উপর চড়ে যায়। এতে প্রাণহানি কম হয়।
কিন্তু ইন্দোর-পাটনা এক্সপ্রেসের মতো কম গুরুত্বহীন ট্রেনে এখনও মান্ধাতার আমলের টেলিস্কোপিক বগি ব্যবহার করা হয়। দুর্ঘটনা ঘটলে এই বগিগুলো একে অপরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। ফলে প্রাণহানি বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ‘এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মর্মান্তিক এই ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।’ মোদি এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিকে সুরেশ প্রভু সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৪২

Be the first to comment on "ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৪২"