নিউজ ডেস্ক : সরকার নদী খননকে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানিয়েছেন, বালুর বিনিময়ে বড় নদীগুলো খননে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। টাকা ছাড়াই তারা নদী খনন করে দেবে। বিনিময়ে তারা বালু নিয়ে যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যমুনা নদীর ড্রেজিংয়ের কথা হচ্ছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে রবিবার (৫ মার্চ) ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী এসব কথা জানান।
পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, বড় নদীগুলো ড্রেজিং করতে ৯ লাখ কোটি টাকা খরচ হবে। এ টাকার সংস্থান করা বর্তমানে সম্ভব নয়। বর্তমানে আমরা ড্রেজিংকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। বাজেটের প্রায় ৫০ শতাংশ বরাদ্ধই ড্রেজিংয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই মুহুর্তে কোনো বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে না বা পরিকল্পনা নেই।
তিনি জানান, আমরা নদী ড্রেজিং করছি।কিন্তু, বালু রাখব কোথায়? দেখা যাচ্ছে ড্রেজিং করে বালু পাড়ে রাখার পর বৃষ্টি হলেই তা নদীতে চলে যাচ্ছে।আবার নদী ভরাট হচ্ছে।তাই অন্যত্র এই বালু সরিয়ে নেওয়া যায় কিনা চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।এটা যমুনা নদী থেকেই শুরু হবে। এ ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। টাকা ছাড়াই তারা নদী খনন করে দেবে। বিনিময়ে তারা বালু নিয়ে যাবে। বরং তারা বালুর ন্যূনতম কিছু মূল্য দেবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যমুনা নদীর ড্রেজিংয়ের কথা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি-অনিয়ম প্রসঙ্গে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, পানির নিচের কাজে ৯৫ শতাংশ চুরি বন্ধ হয়েছে। (পানির) উপরের কাজে এখনো কিছুটা অস্বচ্ছতা রয়েছে। এটাও বন্ধে চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে অভিযোগ পাওয়া গেছে ধরেছি। ১২ জন লোককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার উপর কোনো পলিটিক্যাল প্রেসার (চাপ) আসেনি-যোগ করেন তিনি।
পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, পানি ও নদী ব্যবস্থাপনা বলতে যা বুঝায় আমরা (মন্ত্রণালয়) সেদিকেই যাচ্ছি। সামষ্টিক পরিকলনা নিয়ে আগাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে গঙ্গা ও তিস্তা দুটোকেই গুরুত্ব দিতে চাই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানি।

Be the first to comment on "যমুনার বালু যাবে সিঙ্গাপুরে ॥ পানি সম্পদ মন্ত্রী"