শিরোনাম

লোহাগড়ায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মান কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি’র অভিযোগ

লোহাগড়ায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মান কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি’র অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক ॥ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার কচুবাড়িয়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইন নির্মান কাজে ব্যাপক দূর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের নিকট থেকে নির্ধারিত হারে টাকা আদায়, কর্তৃপক্ষের দেওয়া নকশা অনুযায়ী কাজ না করা এবং মিটারের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার স্থলে গিয়ে দেখা গেছে কচুবাড়িয়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সম্প্রসারণ ও নতুন লাইন নির্মানের কাজ চলছে। এখানে নতুন লাইন নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষ খাম্বাসহ সকল প্রকার মলামাল সরবরাহ করলেও গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালক ফকির মিরাজুল ইসলাম,ঠিকাদার বদরুল আলম (দুলাল) ও ফোরম্যান মোঃ শফিক ঐ এলাকার লোকজন থেকে প্রতি পিলারের জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করে নিয়েছে। যা সহজ সরল এলাকাবাসী একটু বিদ্যুত পাওয়ার আশায় দিতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া নকশা অনুযায়ী কাজ না করে লোকজন থেকে টাকা নিয়ে নকশার বাহিরে একটি পিলার থেকে অপরটি ২শ ২০ফুট দুরত্বে বসানো হয়েছে। এতে বিদ্যুতের লাইন বিভিন্ন লোকজনের বসত ঘরের উপর এবং বাগানের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারন লোকজন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুতের প্রতিগ্রাহক থেকে মিটার সংযোগের নামে ৬ হাজার ও মিটার লাগানোর জন্য ১ হাজার ২ শত টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান। ক্ষোভপ্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান ডিজিটাল দেশ গড়ার লক্ষে এটাই কি সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার অঙ্গীকার। এলাকাটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় স্থানীয় অনেকে সাংবাদিকদের অনুরোধ করে জানান, ‘‘আপনেরা পিপারে এ্যাহন লেহেন না , লেকলি পাকাটা মিরাজের লোকজন কইছে আমাগে কারেন্ট দিবেনা ! আমাগে টাহা গেছে যাক, তারপরেও কারেন দরকার সামনে গরমের দিন!’’ দূর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে আ’লীগের ওয়ার্ড সভাপতি বিবেকান্দ দাস, জেনারেল ম্যানেজার যশোর পল্লি বিদ্যুত সমিতি-২ ও প্রধান প্রকৌশলী যশোর বরাবর গত ২৬ ডিসেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

যশোর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির লোহাগড়া জোনাল অফিসের এজিএম কম,মোঃ শরীফুল ইসলাম জানান বিদ্যুতের লাইন স্থাপনে তাদের করণীয় কিছু নেই। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষে লাইন হস্থান্তরের পরে আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়ে। পরিচালক ফকির মিরাজুল ইসলাম, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কৌশলে অস্বীকার করে বলেন, যেহেতু এগুলো দেখভালোর দায়িত্ব আমার ও যশোরের সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের তবে মুল ঠিকাদার ও ফোরম্যান অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে নকশার বাহিরে কাজ করে থাকেন। নকশার বাহিরে বা,অধিক দুরত্বে কোন পিলার স্থাপন করা হলে তাহা যথা স্থানে পূনরায় স্থাপন করা হবে। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ মৃধা বলেন বিষয়টির ব্যাপারে তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। কোন অনিয়ম দূর্নীতি হলে খোজ খবর নিয়ে সংশোধন করত: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

basic-bank

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মান কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি’র অভিযোগ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*