উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস

নিউজ ডেস্ক : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ভারত জুড়ে পালিত হচ্ছে ৬৮তম প্রজাতন্ত্র দিবস। রাজধানী নয়াদিল্লির বিজয়চকে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু ধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জাভেদ আলি নহিয়ান। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উপ রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর, অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং এইচ ডি দেবগৌড়া, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, বিজেপির সিনিয়র নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা এবং বিদেশের সম্মানীয় অতিথিরাও। এদিন সকাল ১০টার দিকে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ।
প্রধানত এদিনই রাজপথে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেদিকে তাকিয়েই এই কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ১৫৫ এমএম আর্টিলারি গান ধনুশ। প্রদর্শিত হয় সুখোই, জাগুয়ার বিমান, টি-৯০ ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া হেলিকপ্টার রুদ্র, ব্রম্ম ক্ষেপণাস্ত্র, সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস যুদ্ধ বিমান। এই প্রথমবার প্রদর্শন করানো হয় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান তেজসকেও। এরই সঙ্গে যোগ হয়েছিল সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের কসরত। প্রথমবারের জন্য রাজপথের কুচকাওয়াজে মার্চ পাস্ট করে ভারতের এলিট বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) কমান্ডোরা। এর পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রও এই কুচকাওয়াজে ফুটে উঠেছিল। ২১টি রাজ্যের তরফ থেকে সুসজ্জিত ট্যাবলো বের করা হয়। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজধানীর রাজপথে কুচকাওয়াজে অংশ নেয় আরব আমিরাতের তিন সেনাবাহিনী ও মিলিটারি ব্যান্ডের ১৭৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে চলে প্রজাতন্ত্র দিবসের এই কুচকাওয়াজ। শেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়েই অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়।

এর আগে, এদিন সকালে ইন্ডিয়া গেটের সামনে অমর জওয়ান জ্যোতিতে ফুল দিয়ে দেশের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ তিন বাহিনী (স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী)-এর প্রধান। প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজপথের দুই ধার ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৬০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নজরদারিতে রাজপথের পাশাপাশি পুরো দিল্লি শহর জুড়ে কয়েক হাজার সিসিটিভি বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছিল এনএসজি কমান্ডোদের। কোনরকম জঙ্গি-নাশকতা রোধে আকাশেও কড়া নজরদারি চালানো হয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর তরফেও।

রাজধানী দিল্লির পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য রাজ্যেও জমকালো অনুষ্ঠানে পালন করা হচ্ছে ৬৮তম প্রজাতন্ত্র দিবস। কলকাতার রেডরোডে (ইন্দিরা গান্ধী সরণি) জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ। কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরি নাথ ত্রিপাঠি। সকাল দশটার দিকে শুরু হয়ে প্রায় দেড়ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই কুচকাওয়াজ। এই কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থসহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সচিব ও সরকারি কর্মকর্তারা। এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরা, মণিপুর, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাবসহ প্রতিটি রাজ্যেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*