নিউজ ডেস্ক ॥ নড়াইলে দু’দিনব্যাপী লোককবি বিজয় সরকারের জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন হয়েছে।শুক্রবার সন্ধ্যায় কবির জন্মস্থান সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদী গ্রামে উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান।
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এবিএম খালিদ হোসাইন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী শৈলেন্দ্রনাথ সাহা, জন্মজয়ন্তী উদযাপন পষর্দের আহবায়ক এডভোকেট ওমর ফারুক, বিজয় সংসদের সভাপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, সাধারন সম্পাদক মো: আসাদুজ্জামান, নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট এসএ মতিন, বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিরাজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কল্যাণ মূখার্জী প্রমূখ।
কবি বিজয় সরকারের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।উৎসবের উদ্বোধনী দিনে কবিয়াল বিজয় সরকারের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, কবির স্বরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ,মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।উৎসবের প্রথম দিনের অনেকখানি জুড়ে ছিল বরেণ্য শিল্পীদের কন্ঠে বিজয়গীতি পরিবেশন।উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজয়ভক্তরা ছুটে এসেছেন ডুমদীতে।অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বরেণ্য কবি,সাহিত্যিক,গবেষক ও লোকজ সংষ্কৃতির পুরোধাগন অংশগ্রহণ করেন। বাউলশিল্পীদের উপস্থিতি ও তাদের দরদভরা কন্ঠের গান উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।জারিগান পরিবেশন করেন রীনা পারভীন ও সালমা পারভীন।
পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ একদিন ভাবি নাই মনে…। এই পৃথিবী যেমন আছে/ তেমনি ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে/ একদিন চলে যেতে হবে…। তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা’…এ ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের রচয়িতা ছিলেন গীতিকার ও সুরকার একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বিজয় সরকার। কবির প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য তিনি চারণকবি ও ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন।১৯৮৫ সালের ৪ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ার তার মৃত্যুর হয়।সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৩ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই লোককবি।
Be the first to comment on "নড়াইলে বিজয় সরকারের জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন"