নিউজ ডেস্ক : গলা কেটে বন্দিদের হত্যা করা আইএস জঙ্গিদের কাছে তুচ্ছ ব্যাপার। বন্দিদের এভাবে হত্যা করার প্রথা প্রথম বিশ্বের সামনে এনেছিল ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়দা।
২০০১ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে, আল-কায়দা ইরাকে বন্দিদের গলা কেটে মেরে ফেলার ভিডিও প্রকাশ করত। নৃশংসতার সেই ছবিকেও যেন ছাপিয়ে যেতে চাইছে আইএস, যাদের আল-কায়দার উত্তরসূরী বলা হচ্ছে। বন্দিদের গলা কতটা নৃশংসভাবে কেটে ফেলা যায় সেই নমুনাই বারবার দিতে ভয়ঙ্কর সব ভিডিও প্রকাশ করে গেছে আইএস। সম্প্রতি এমনই এক ভিডিও প্রকাশ করেছে আইএস, যেখানে নৃশংসতাকে আরও বড় করে দেখানো হয়েছে। বোঝানোর চেষ্টা চলেছে আইএস বিরোধীদের তারা কী হাল করতে প্রস্তুত।
ভিডিওটির নাম দেওয়া হয়েছে, দ্য মেকিং অব ইলিউশন। ভিডিওটি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দেই-এর-জোর নামক এলাকায় তোলা হয়েছে। দেখানো হয়েছে, বিশাল এক কসাইখানার এক কোণে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে একদল বন্দিকে, যাদের শরীরে কমলা রং-এর পোশাক। আইএস-এর দাবি, এরা মার্কিন সরকারের গুপ্তচর। সকলেরই হাত-পা প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাঁধা। বন্দিদের মধ্যে কাউকে কাউকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার পর তাদের ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলা হচ্ছে। গলা থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসছে রক্ত। পরে, রক্তমাখা মাথাটা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে কোণে। যেমন করে ছাগল-পাঁঠাদের কেটে ফেলেন কসাইরা, তেমনভাবেই যেন একের পর এক বন্দি মানুষকে হত্যা করছে আইএস-এর ঘাতকরা।
ভিডিও-তে আরও দেখানো হয়েছে, কিছু বন্দিকে মাথা নীচে, পা উপরে করে মাংস ঝোলানোর আংটার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে জঙ্গিরা। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা বন্দিদের গলা কাটার ছবির ভিডিও তোলা হয়েছে। নৃশংসতার এই ভিডিও এতটাই ভয়ঙ্কর যে তা সাধারণ মানুষের চোখের সামনে আনা যাচ্ছে না। যদিও, আইএস-এর দাবি, কুরবানির ঈদে ইসলাম মতে মার্কিন এই গুপ্তচরদের কুরবানি দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি যেখানে তোলা হয়েছে, সেই স্থানটি কোন এক সময়ে পশুদের মাংস কাটার জন্য ব্যবহার করা হত বলেই মনে করা হচ্ছে। বন্দিদের গলা কাটার পরে তাদের দেহগুলো নর্দমার উপরে ছুঁড়ে ফেলার ভিডিও দৃশ্যায়িত করেছে আইএস। তাদের দাবি, কুরবানির পরে এভাবেই নর্দমা দিয়ে রক্ত বের করে দেওয়া হয়। এমন এক নৃশংসতার ছবি দেখিয়ে আইসিস-এর উন্মাদ জঙ্গিরা হয়তো বিজয় স্লোগান দিচ্ছে, কিন্তু, ধিক্কার উঠেছে বিশ্ব জুড়ে।

Be the first to comment on "বন্দিদের হত্যার ভিডিও প্রকাশ করল আইএস"