শিরোনাম

ভোগান্তির অপর নাম গোপালগনজের কালনা ফেরীঘাট

ভোগান্তির অপর নাম গোপালগনজের কালনা ফেরীঘাট

নিউজ ডেস্ক ॥ নড়াইল জেলার সিমান্তবর্তী গোপালগনজের মধুমতি নদীর কালনা ফেরীঘাটে পারাপারে ব্যবহৃত ফেরির ফ্যান (পাখা) ডুবোচরে ভেঙ্গে অচল হয়ে যাওয়ায় ঘাটের দু’পাড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিপাকে পড়েছে পরিবহনের হাজার হাজার যাত্রী ও পন্যবাহী ট্রাক। নদীর পাড়ে বুধবার বিকেল থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত শারি দিয়ে দাড়িয়ে আছে শত শত বাস-ট্রাক। পারাপারে নিয়োজিত তিনটি ফেরির মধ্যে একটি অনেক আগেই অচল হয়ে পড়ে আছে। সচল দুটির একটি বিকল হওয়ায় দু’পাড়ে অন্তত পাঁচশতাধিক দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান,পণ্যবাহী যানবাহন,এম্বুলেন্স,পিকআপ সহ বিভিন্ন যানবাহন। কালানাঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় হাজার হাজার যাত্রীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। কাঁচামাল পঁচেগলে নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীদের সাথে ফেরির ইজারাদারও হয়ে পড়েছেন অসহায়। ফরিদপুরের আটরশীর বিশ্বজাকের মঞ্জিল এর পবিত্র উরশ শরীফ এ যোগদানের উদ্দেশ্যে ও নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পটে শিক্ষা সফরে বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা শতশত যাত্রীবাহী বাসও আটকা পড়েছে কালনাঘাটে। তাছাড়া সম্প্রতি মাগুরার সীমাখালী ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় যশোর-কালনা-ঢাকা সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুন। সব মিলিয়ে একটি ফেরি দিয়ে ডুবোচর পেরিয়ে পারাপার দঃুসাধ্য হয়ে পড়েছে। (২৩ ফেব্রুয়ারী ) সকালে ঘাট এলাকা ঘুরে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জেলাসহ বিভিন্ন বিভাগের কয়েকটি জেলার যাত্রী ও পণ্যবহনের সহজ পথ হলো বেনাপোল- যশোর-নড়াইল- কালনাঘাট- ভাটিয়াপাড়া-ভাংগা-ঢাকা রুট। রাজধানী ঢাকার সাথে নড়াইল-যশোর, মংলা, সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য এলাকার সহজ যোগাযোগের রুট কালনাঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রিবাহী বাস, ট্রাক,কাভার্ড ভ্যান,পিকআপ, টেম্পুসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। মধুমতি নদীতে পানি কমে যাওয়ায় যাতায়াতকারী যানবাহন ও যাত্রীদের জোয়ার-ভাটার অপেক্ষায় ঘন্টার পর ঘন্টা পারাপারের জন্য নদীপাড়ে বসে থাকতে হয়। কালনা ফেরীঘাট পয়েন্টে মধুমতি নদীতে অসংখ্য ডুবোচর থাকায় রাতের বেলা ও ভোরে ফেরি চরে আটকে যায়। দিনের বেলাতেও ফেরি চরে আটকা পড়ে। মাঝ নদীতে যাত্রি ও যানবাহন অসহায়ভাবে আটকে থাকে। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হলেও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের ডুবোচর সরাতে তেমন মাথা ব্যাথা নেই। এদিকে,কালনা ঘাটে ব্যবহৃত তিনটি ফেরির মধ্যে একটি অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে। সচল দুটির একটি গত বিকল হওয়ায় দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। সম্প্রতি মাগুরার সীমাখালী ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় নড়াইল-কালনা-ঢাকা সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুন বেড়ে গেছে। এরই সাথে যোগ হয়েছে ফরিদপুরে বিশ্বজাকের মঞ্জিল এর পবিত্র উরশ শরীফ। উরশ শরীফে যোগ দিতে শতশত বাস ভর্তি যাত্রী ছুঁটছেন কালনাঘাট দিয়ে। যে কারনে চাপ আরো বেড়েছে। কালনাঘাটের ফেরির চালক মফিজুর রহমান জানান, ঘাটপয়েন্টে অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে, গভীর রাতসহ দিনের বেলায় পারাপারের সময় ডুবোচরে ফেরি আটকে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা নদীর মাঝে বসে থাকি। ফেরির ইজারাদার মনজুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা বা গুরুত্ব দেয়না। এ পথে চলাচলকারী বাস চালক সাব্বির হোসেন জানান, গত সোমবার বেলা ১২টা থেকে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়েই আছি। এখনো দুই কিলোমিটার রাস্তা পারাপারের জন্য গাড়ি অপেক্ষায় আছে। কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার হাসান আলী জানান, যশোর থেকে মাগুরা ব্রীজ পার হয়ে ঢাকা যেতাম। কিন্তু সে ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ার পর কালনাঘাট হয়ে চলাচল করছি। কিন্তু এখানেও ভোগান্তিতে পড়লাম। ট্রাকড্রাইভার আনিচ বলেন, কাঁচা তরিতরকারি বোঝাই করে রওয়ানা হয়ে এখন ৫ ঘন্টার বেশি ঘাটে বসে আছি। আজ পার হতে পারো বলে মনে হয় না। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

basic-bank

Be the first to comment on "ভোগান্তির অপর নাম গোপালগনজের কালনা ফেরীঘাট"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*