নিউজ ডেস্ক : ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহীদুল ইসলামের (শহীদ) রিভিও খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রবিবার (৫ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন। এরফলে রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষা ছাড়া তার ফাঁসি কার্যকরে আর কোন বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন এসকে সাহা।
গত বছর ২ আগস্ট শাজনীন হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ৫ আসামির মধ্যে শুধুমাত্র শহীদুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। আর বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয়জনের মধ্যে হাইকোর্ট একজনকে খালাস দিয়ে পাঁচজনের দণ্ড বহাল রেখেছিলেন।
১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে নিজ বাড়িতে খুন হন লতিফুর রহমানের মেয়ে স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমান। এ ঘটনায় শাজনীনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
চার বছর পর ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী রহমতউল্লাহ তাদের বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পালনকারী ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসানসহ ছয়জনকে ফাঁসির আদেশ দেন।
ফাঁসির আদেশ পাওয়া বাকি পাঁচ আসামি ছিলেন গৃহভৃত্য শহীদুল ইসলাম (শহীদ), হাসানের সহকারী বাদল এবং গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও পারভীন এবং কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মণ্ডল।
পরে এই মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে যায়। ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট পাঁচ আসামি হাসান, শহীদ, বাদল, মিনু ও পারভীনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। তবে ফাঁসির আদেশ পাওয়া শনিরামকে খালাস দেন হাইকোর্ট।
এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন ফাঁসির আদেশ পাওয়া চার আসামি মইনুদ্দিন হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন। ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির আপিলের আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। আর ফাঁসির আদেশ পাওয়া আরেক আসামি শহীদুল জেল আপিল করেন।
প্রায় সাত বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ ওই পাঁচ আসামির আপিলের শুনানি শুরু হয়। সেই আপিলের শুনানি শেষে একই বছর ২ আগস্ট শহীদুলের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে বাকিদের খালাস দেন আপিল বিভাগ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেই শহীদুলের ফাঁসির দণ্ড রিভিউতেও বহাল রাখা হয়েছে।

Be the first to comment on "শাজনীন হত্যা, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শহীদের রিভিউ খারিজ"