নিউজ ডেস্ক : ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকার দুই মেয়র। মঙ্গলবার ঈদের দিন দুপুর থেকে বর্জ্য অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার যে কার্যক্রমের সূচণা হয়েছিল, তার তথ্য জানাতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এবং উত্তরের আনিসুল হক।
সকালে সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন বলেন, “নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আমরা আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ১১টা) দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে সমর্থ হয়েছি।” মেয়র জানান, গত দুই দিনে ৩২৪টি গাড়িতে দুই হাজার ৯০২টি ট্রিপের মাধ্যমে ১৯ হাজার আট টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এবছর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুই লাখ ৪০ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে পশু কোরবানির জন্য করপোরেশনের নির্ধারিত ৫০৪টি স্থানে উপস্থিতি আশানুরূপ ছিলনা বলে মন্তব্য করেন মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, “আমাদের এ উদ্যোগের দ্বিতীয় বছর চলছে। গতবছরের তুলনায় এবার উপস্থিতি বেশি ছিল। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে।”
ঈদের দিন সকালে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় শান্তিনগর ও জুরাইন এলাকায় কোরবানির পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে যায়। ফলে গলিপথ লাল রঙ ধারণ করে বিরল দৃশ্য তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে রক্তমিশ্রিত পানি জমে থাকা ‘দৃষ্টিকটূ’ মন্তব্য করে সাঈদ খোকন বলেন, “এটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আমরা বুঝতেই পারিনি এমন হতে পারে।
“আগামী কোরবানির ঈদে এ বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকবে। ঈদের দিন বৃষ্টি হলে নগরবাসীও কোরবানির জন্য সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন।” কোরবানির পশুর হাট নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে রাস্তায় চলে আসার পরও সিটি করপোরেশন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- এমন অভিযোগ খণ্ডন করে মেয়র বলেন, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতেই সেসময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলণে উত্তরের মেয়র আনিসুল হক জানান, তার এলাকায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৫টি পশু কোরবানি হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সাত হাজার ৮০১ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণ কাজে তিন হাজার ৪৮০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেছেন বলে জানান মেয়র। আনিসুল বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত সব ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে পেরেছি। আপনারা দেখেন কোথাও কোনো বর্জ্য নেই।”
নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে নগরবাসীর আগ্রহ বাড়ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা পশু কোরবানিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আনার চেষ্টা করছি। কিছু ওয়ার্ডে ৮০ ভাগ পশু নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা হয়েছে। কোথাও হয়নি। “এভাবে আরও কয়েকবছর প্রচারণা চালাতে হবে। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে আমরা জবাইখানা করে ফেলতে পারব। তখন সেখানেই কোরবানি করা সম্ভব হবে।”

Be the first to comment on "সময় মতোই ঢাকা পরিষ্কার, দাবি মেয়রদের"