শিরোনাম

সাংবাদিক হত্যা ॥ মেয়রকে গ্রেফতারের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম

নিউজ ডেস্ক : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌর মেয়রের গুলিতে নিহত সাংবাদিক আঃ হাকিম শিমুল ও তার মৃত্যুর খবর শুনে শোকাহত হয়ে মৃত্যু বরণকারী নানী রোকেয়া বেগম(৯০) এর  নামাজে জানাযা  ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তার নিজ গ্রাম মাদলা গ্রামে ২য় নামাজের জানাযা শেষে মাদলা-কাকিলামারি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। উক্ত নামাজে জানাযাতে, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.সাজ্জাদ হায়দার লিটন,  উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলিমুন রাজিব, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারন-অর-রশিদ খান হাসান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ফজলে খোদা লিটন, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু, সাধারন সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফি, দৈনিক জনকণ্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা সৈয়দ হুমায়ুন পারভেজ শাব্বির, সাংবাদিক হাসানুজ্জামান তুহিন, দৈনিক নয়া দিগন্ত সংবাদদাতা আবুল কাশেম,  সাংবাদিক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন হোসেন, সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, যুগ্ন সম্পাদক মামুন রানা, শামছুর রহমান শিশিরসহ কয়েক হাজার লোক।

 

এদিকে, মেয়রকে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল শনিবার সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের আহবানে ও ছাত্রলীগের ডাকা অর্ধদিবস  হরতাল স্বতস্ফুর্ত ভাবে পালিত হয়। ১ম নামাজে জানাযা শেষে শাহজাদপুর সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ মেয়রকে গ্রেফতারের দাবিতে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষীন করে প্রেসক্লাব চত্তরে গিয়ে এক সংক্ষীপ্ত সমাবেশে খুনি মেয়র ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতারা। এই বিক্ষোভ ও সমাবেশে সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদকর্মীরা অংশ গ্রহন করে। উক্ত জানাযা, পুর্বে এক সংক্ষীপ্ত আলোচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন বলেন, একজন নির্ভিক সংবাদ কর্মীকে খুন করা হয়েছে। আমি এই নিহতের পরিববারের সাথে সাক্ষাত করেছি এবং বলেছি নিহতের পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করার ব্যবস্থা করবো। তিনি আরো বলেন, খুনি যে দলেরই হোক না কেন, তাকে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃশ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান করা হবে। যেহেতু মেয়র হালিমুল হক মিরু নিজেই বলেছেন, আমি আত্বরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছি সেহেতু তার কথাতেই হত্যার প্রমান দৃষ্যমান হয়েছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট এই খুনি মেয়রকে শাস্তির ব্যাবস্থা গ্রহন করার আহবান জানান।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, সহকারী পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত তার কাছে বলেছেন, ঘটনার সময় এ,এসপি সার্কেল মেয়রকে গুলি করতে নিষেধ করলেও তা অগ্রাহ্য করে গুলি ছুড়েছে। তাই একথায় এটা প্রমানিত মেয়র হালিমুল হক মিরু সম্পুর্ন হত্যার উদ্যোশ্যেই সাংবাদিক আঃ হাকিম শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এছাড়াও আওয়ামীলীগ নেতারা বলেন, খুনি মেয়র পুলিশ পাহাররায় থাকা সত্বেও বাড়ী থকে পালাল কিভাবে? প্রশাসনের কাছে এর জবাব চান।

 

সাংবদিক সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা খুনি মেয়র ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দেন। এই সময়ের মধ্যে গ্রেফতার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি প্রদান করা হয়। নির্ভিক সাংবাদিক আঃ হাকিম শিমুলকে এই ন্যাক্কার জনক হত্যার ঘটনায় শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন হিরু ও যুগ্ন সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন। এছাড়াও শাহজাদপুর বনিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন এই হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হরতাল সমর্থন করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছুড়া গুলিতে সাংবাদিক আঃ হাকিম শিমুল গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শাহজাদপুরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনয় শাহজাদপুরের গুরুত্বপুর্নস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতয়েন রয়েছে। শনিবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নিহত সাংবাদিক শিমুলের পরিবারের লোকের সাথে সমবেদনা জ্ঞাপনের জন্য আসবেন বলে জানা গেছে।

 

 

basic-bank

Be the first to comment on "সাংবাদিক হত্যা ॥ মেয়রকে গ্রেফতারের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*