সানিয়ার হারে শেষ ভারতের দৌড়

নিউজ ডেস্ক :  টেনিসের জোকারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে ম্যাচ মানে যেন এখন একটা ‘জোক’! এমনটাই বলে মার্কিন মুলুকের বিখ্যাত দৈনিক লিখছে, ‘বিশ্বের এক নম্বর এ বার ফ্লাশিং মেডোজে এসেছিলেন কব্জির ব্যথা নিয়ে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে যিনি-ই কোর্টে নামছেন, বেশির ভাগেরই জুটছে শারীরিক ব্যথা। আর তার পরেই ম্যাচ ছেড়ে প্রস্থান।’ সঙ্গে পুরুষ সিঙ্গলসে টিকে থাকা বাকি তিন প্লেয়ারের উদ্দেশ্যে ওই প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা— ‘জকোভিচের বিরুদ্ধে নামার আগে টেনিস স্কিলের পাশাপাশি নিজেদের মেডিক্যাল রিপোর্টটাও একটু চেক করে নেবেন!’
কারণটা কী? খুব সোজা। গত বারের চ্যাম্পিয়ন ও এ বারের শীর্ষ বাছাই জকোভিচ সেমিফাইনালে উঠতে যে পাঁচটা ম্যাচ খেললেন, তার মাত্র দু’টো খেলে জিতেছেন। বাকি তিনটেই ওয়াকওভার। তার মধ্যে দু’টো খেলা চলাকালীন বিপক্ষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন চোটের কারণে। অন্যটায় প্রতিপক্ষ কোর্টে না নেমেই ওয়াকওভার দেন অসুস্থ হয়ে পড়ায়। যে তালিকার সর্বশেষ সংযোজন নবম বাছাই ফরাসি জো উইলফ্রেড সঙ্গা। গত রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দু’সেট সঙ্গা ৩-৬, ২-৬ হারার পরে তৃতীয় সেটের গোড়ায় সরে দাঁড়ান বাঁ হাঁটুর ব্যথায়। যার জেরে জকোভিচ তাঁর টানা দশ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে ওঠার অসাধারণ নজির গড়ে ফেলেন।
কিন্তু তাতেও খোঁচা খাওয়া থেকে বাঁচছেন না! উইম্বল়ডনে তৃতীয় রাউন্ড আর রিও অলিম্পিক্সে প্রথম ম্যাচেই হেরে যাওয়া জকোভিচকে শুনতে হচ্ছে, কব্জির কী সৌভাগ্য! শুক্রবারের আগে সেমিফাইনাল খেলতে হবে না। যার অর্থ, জকোভিচ শেষ এগারো দিনে মাত্র একটা আস্ত ম্যাচ খেলবেন! এমনিতেও সঙ্গা ম্যাচের মাঝে ওয়াকওভার দেওয়ায় যা দাঁড়াল— জকোভিচ প্রথম রাউন্ডে জের্জি জানোভিচকে চার সেটে হারানোর পর থেকে শেষ চারে উঠতে মাত্র পাঁচটা সেট খেললেন!
টেনিসের জোকার অবশ্য সিরিয়াস। কোয়ার্টার ফাইনালের তৃতীয় সেট সঙ্গা ডাবল ফল্ট দিয়ে শুরু করার পরে ওয়াকওভার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জকোভিচ বলেছেন, ‘‘আমি সত্যিই জো-র খুব তাড়াতাড়ি সুস্থতা কামনা করছি। ও একজন যোদ্ধা, যে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে ভালবাসে।’’ কিন্তু নিজের এ ভাবে ওয়াকওভার পেতে পেতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে উঠে পড়া? জোকারের জবাব, ‘‘আগেরটার সময়ই তো বলেছিলাম, আমার গ্র্যান্ড স্ল্যাম কেরিয়ারে এমন কাণ্ড কখনও ঘটেনি। আর এখন বলব, এমন উদ্ভট কাণ্ড কোনও প্লেয়ারের কেরিয়ারে বোধহয় ঘটেনি!’’ সেমিফাইনালে জকোভিচের প্রতিপক্ষ আর এক ফরাসি মঁফিস। যাঁর ২০০৮ ফরাসি ওপেনের পরে এটাই প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনাল। তবে এ বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে মঁফিস এখনও একটাও সেট হারেননি। শেষ আটে স্ট্রেট সেটে হারান আগের ম্যাচেই নাদাল-বধকারী লুকা পুই-কে।

মেয়েদের একটা সেমিফাইনাল লাইন আপ গত রাতে ঠিক হয়ে যায়। বিশ্বের দুই নম্বর অ্যাঞ্জেলিক কের্বার বনাম প্রাক্তন এক নম্বর ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। চোটে চোটে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা ডেনমার্কের ওজনিয়াকির যেন পুনর্জন্ম ঘটছে ফ্লাশিং মে়ডোজে। দু’বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন রানার্স ওজনিয়াকি র‌্যাঙ্কিংয়ে নামতে নামতে ৭৪ হয়ে গিয়েছিলেন। এখনও ৪৮-এ। কিন্তু অবাছাই হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে ওঠায় পরবর্তী তালিকায় নিজের র‌্যাঙ্কিং অনেকটাই বাড়িয়ে নেবেন সন্দেহ নেই। যেমন সন্দেহ নেই, কোয়ার্টার ফাইনালে খানিকটা ভাগ্যের আশীর্বাদও পেয়েছেন তিনি। কারণ তাঁর বিপক্ষ, জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সেভাসোভা প্রথম সেটের দ্বিতীয় গেমে ডান পায়ের গোড়ালি মচকে কোর্টে পড়ে যান। তার পরে তিনি ম্যাচ শেষ করলেও কোনও সময়ই আর নিজের ফর্মে খেলতে পারেননি। ওজনিয়াকিও ৬-০, ৬-২ জেতার পরে বলেছেন, ‘‘ওর জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। কারণ, আমিও একটা সময় ও রকম চোট পেয়েছিলাম।’’
অস্ট্রেলীয় ওপেন চ্যাম্পিয়ন কের্বার আবার নিউইয়র্কে গত বার সেরিনাকে ছিটকে দেওয়া রবার্তা ভিঞ্চিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ৭-৫, ৬-০ হারিয়ে বলে দিয়েছেন, ‘‘আমি এখন পুরোপুরি অন্য প্লেয়ার। রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী। জানি বড় ম্যাচ কী ভাবে জিততে হয়।’’ সেরিনাকে আগাম সতর্কবার্তা? অনেকে কিন্তু তেমনই মনে করছেন!
এ সবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে ভারতীয়দের চ্যালেঞ্জ শেষ হয়ে গেল। যখন তাঁর নতুন চেক সঙ্গী বারবারা স্ট্রাইকোভাকে নিয়ে বিশ্বের এক নম্বর ভারতীয় ডাবলস তারকা মেয়েদের ডাবলসের কোয়ার্টার ফাইনালে ৬-৭ (৩-৭), ১-৬ হেরে বসেন শীর্ষ বাছাই ফরাসি জুটি মাডেনোভিচ-গার্সিয়ার কাছে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "সানিয়ার হারে শেষ ভারতের দৌড়"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*