নিউজ ডেস্ক : এক মাসেরও বেশি সময় আগে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে অপহৃত চিকিৎসক মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদকে উদ্ধারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ডা. ইকবাল মাহমুদকে উদ্ধারে নিষ্ক্রিয়তা কেন কর্তব্যে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনারসহ ১০ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, সঙ্গে ছিলেন জিয়াউদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।
আমাতুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, অপহৃত চিকিৎসক মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদকে উদ্ধারে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ১০ দিনের মধ্যে জানাতে এবং ৪ সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জারি করা রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত। উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরীর সামনে থেকে সাদাপোশাক ধারী লোকজন মাথায় হেলমেট পরিয়ে ডা. ইকবাল মাহমুদকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ধানমণ্ডি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলার তেমন কোন অগ্রগতি নেই।
ডা. ইকবাল মাহমুদ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশের পর ২৮তম বিসিএস এ উর্ত্তীন হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যোগদান করেন। ইকবাল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক। তিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবেদনবিদ্যায় (অ্যানেসথেশিয়া) দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন গত ১০ অক্টোবর। এরপর লক্ষ্মীপুরে যান। সেখানে ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরেই অপহৃত হন তিনি।
পরে ওই এলাকা থেকে পরিবার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজে দেখা যায়, ভোররাত ৩টা ১০ মিনিটে রয়েল কোচ নামে একটি বাস সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে ধানমণ্ডি ১ নম্বর রোডের কাছে এসে থামে। ইকবাল মাহমুদ ওই বাস থেকে নেমে দাঁড়ান। সঙ্গে সঙ্গে সাত-আটজন তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং খুব দ্রুত মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যান। মাইক্রোবাসের পেছনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও ছিল। তার পেছনে একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন আরও দুজন।
তাকে উদ্ধারে করা মামলায় দীর্ঘদিনেও অগ্রগতি না হওয়ায় একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনও করেন ডা. ইকবালের বাবা এ কে এম নুরুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অপহরণের এক দিন পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি ইকবালকে ফিরে পেতে চাইলে পরের ফোনটি ধরতে বলেন। কিছুক্ষণ পরই ইকবালের ফোন থেকে কল আসে। নুরুল আলম ফোনটি ধরলেও অপর প্রান্ত থেকে পরিষ্কার কিছু শোনা যাচ্ছিল না। কয়েক সেকেন্ড পর লাইন কেটে যায়। তারপর প্রথম যে নম্বরটি থেকে ফোন এসেছিল, সেটি থেকে আবার কল আসে এবং বিকাশের চারটি নম্বর দিয়ে তাতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠাতে বলেন। তিনি বিকাশে টাকা পাঠিয়েছেন, কিন্তু ছেলেকে ফিরে পাননি।
এরপর তিনি বিষয়টি ধানমণ্ডি থানার পুলিশকে জানান। পুলিশ বিকাশের চারটি নম্বরের অবস্থান দ্রুত খুঁজে বের করে দেখায়। ওই নম্বরগুলোর শেষ অবস্থান ছিল চট্টগ্রামে। কিন্তু তাঁর ছেলের ফোনের অবস্থান কোথায় ছিল, সে সম্পর্কে বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁকে পুলিশ কিছু জানায়নি। বারবার অনুরোধ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও ডা. ইকবালের উদ্ধারে অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১৫ নভেম্বর ছেলের খোঁজ পেতে হাইকোর্টে রিট করেন এ কে এম নুরুল আলম। সেই আবেদনের ওপর দুইদিন শুনানি শেষে আজ (রবিবার) এই রুল জারি করা হয়।

Be the first to comment on "অপহৃত চিকিৎসকের সন্ধানে পদক্ষেপ জানতে চান হাইকোর্ট"