শিরোনাম

অবৈধ অভিবাসী প্রশ্নে নমনীয় হলেন ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক : ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম ইস্যু ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা। কিন্তু তার প্রথম ১০০ দিনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনায় আপাতত এই ইস্যুটি স্থান পায়নি।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
তার প্রাথমিক এই কর্মপরিকল্পনায় মুসলিমদের তালিকাভুক্ত করার জন্য যে রেজিস্ট্রি বা ডেটাবেইস চালুর বিষয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো সে বিষয়েও কোনো কথা বলেননি ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় যে পাঁচটি বিষয় তালিকাভুক্ত করেছেন তার প্রথমে রয়েছে আন্তপ্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা চুক্তি বা টিটিপি বাতিল।
এক নির্বাহী ঘোষণার মাধ্যমে এই চুক্তি বাতিলের কথা তিনি প্রথম দিনই জানিয়ে দেবেন। বহুজাতিক এই চুক্তির স্থলে তিনি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা হয় এমন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করবেন।
জ্বালানি উৎপাদন ক্ষেত্রে বর্তমান যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, প্রথম দিনেই তা প্রত্যাহার করে কয়লা ও গ্যাস-তেল উৎপাদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
ট্রাম্পের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ব্যবসায়-বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ রয়েছে, তা শিথিল করা হবে। এই লক্ষে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে বর্তমানে চালু রয়েছে এমন দুটো চলতি বিধিনিষেধ বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়ার কথাও ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তার প্রশাসনের সদস্যদের লবিং করা নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করে নতুন নৈতিক নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচিতে অভিবাসীদের বহিষ্কার করা, ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় বার্তা আদান প্রদানের অভিযোগে হিলারি ক্লিনটনকে জেলে পাঠানো, জোর জ্বালানি উৎপাদন, মুসলিমদের নিবন্ধন ও মেক্সিকোর সঙ্গে দেয়াল নির্মাণে নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের ঘোষণা নেই।
ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রশাসনের কোনো কোনো সদস্য ও উপদেষ্টা ইঙ্গিত করেছেন, তিনি শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের সমর্থন নিয়েছেন এমন অভিযোগের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, এরকম কোনো গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করার কোনো ইচ্ছে তার নেই।
এছাড়া ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় বার্তা আদান প্রদানের অভিযোগে হিলারি ক্লিনটনকে জেলে পাঠাবেন এটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচাইতে বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি। তা থেকে এখন পিছু হটেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি হিলারি ক্লিনটনকে আর কষ্ট দিতে চান না।
ট্রাম্পের মুখপাত্র কেলিএ্যান কনওয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ট্রাম্প আরও জরুরি বিষয়ে মনোনিবেশ করছেন।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের হিলারি ক্লিনটনকে জেলে পাঠানো, অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানো ও মুসলিমদের নিবন্ধনের মতো বিষয়ে যে প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন তা থেকে প্রথমেই পুরো উল্টো পথে হাটার সিদ্ধান্তে তার সমর্থকরা অবশ্য রীতিমতো চটেছেন।

basic-bank

Be the first to comment on "অবৈধ অভিবাসী প্রশ্নে নমনীয় হলেন ট্রাম্প"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*