নিউজ ডেস্ক : শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাবনা নিয়ে বড় একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই দলটি। বরং প্রস্তাবনা উপস্থাপনের দিন থেকেই নানা মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রস্তাবনাকে অন্তঃসারশূন্য বললেও সাংবিধানিক কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সামরিক বিভাগকে ম্যাজিস্ট্রেসি (বিচারিক) ক্ষমতা প্রদান এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবনাকে সুশীল সমাজের কেউ বলছেন অসাংবিধানিক, কেউ বলছেন অর্থহীন, কেউ বলছেন পেছনে হাঁটার শামিল, আবার কেউ একে ভয়ানক প্রস্তাব হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে গত শুক্রবার বিকেলে বিএনপি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। ওই দিনই তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “জামায়াত ও সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ আমার পছন্দ হয়নি।” তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার প্রস্তাবনায় নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে করণীয় বিষয়গুলোর শুরুতেই বলা হয়েছে, আরপিও’র ডেফিনেশন ক্লজে ‘ল এনফোর্সিং এজেন্সি’ হিসেবে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ‘ডিফেন্স সার্ভিসেস অব বাংলাদেশ’ পুনঃস্থাপন করতে হবে। আবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান করে সব নির্বাচনী এলাকায় টহলসহ ভোটকেন্দ্রে ও বিশেষ বিশেষ স্থানে মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” তিনি আরো বলেন, “আমি চাই, ইসি শক্তিশালী হবে। আর আর্মি আর্মির কাজ করবে।”
প্রস্তাবনার একই বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, “এটি পেছনে হাঁটার শামিল হবে। সেনাবাহিনীকে রাজনীতি, নির্বাচন-এসব থেকে দূরে রাখাই ভালো। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে থাকার সময় আমাদের সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হয়। সে দায়িত্ব পালন করতে হয় সে দেশের ভোটার না থেকে। কিন্তু দেশে তো তারা ভোটার।” আর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, “সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বহিরাক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য। জুডিশিয়াল ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন সম্পর্কিত অপরাধের বিচার করা তাদের দায়িত্ব নয়।”
এদিকে, খালেদা জিয়ার এ প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, “এখন যদি বিএনপি ক্ষমতায় থাকত, তাহলে এই প্রক্রিয়ায় একটি কমিশন গঠনে বিএনপিও ব্যর্থ হত। কারণ, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের বুদ্ধিজীবীরা এর কাছাকাছি একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেটা তখন তাঁরা বাস্তবায়ন করেননি। সুতরাং, এ ধরনের বক্তব্য শুধু বিতর্কের জন্ম দেবে।” খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নতুন কিছু নেই বলে উল্লেখ করেন মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন আরো গুরুত্বারোপ করতে পারতেন।”
খালেদা জিয়ার ওই প্রস্তাবের কোথাও সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না থাকলেও পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে দলটির সম্পৃক্ততা বোঝানো হয়েছে। প্রস্তাবের অন্তত সাতটি জায়গায় সকল দলের ঐক্যমত্যের কথা বলা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, তাতে নিবন্ধিত দল ছাড়াও প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটা জামায়াতকে এ প্রক্রিয়ায় রাখার কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, “জামায়াতকে নিয়ে যেখানে বিতর্ক ও সমালোচনা আছে, সেখানে কৌশলে এই দলটি রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।”

Be the first to comment on "ইসি পুনর্গঠন প্রস্তাব নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বিএনপি"