শিরোনাম

ইস্তাম্বুল বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯, আহত ১৬৬

নিউজ ডেস্ক : তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চালানো জোড়া বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ২৯ জনের প্রাণহানির খবর জানা গেছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এবং বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে।

একে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি এবং গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আহত হয়েছে আরও ১৬৬ জন। অহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিরাপত্তাসূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল পুলিশ এবং পুলিশের গাড়ি। এখন পর্যন্ত হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে আটকের খবর দিয়েছে বিবিসি।

সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে তুরস্ক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু পোষ্ট জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর আশঙ্কা অনুযায়ী দুই বিস্ফোরণের একটি ছিল আত্মঘাতী বোমা হামলা। অপর হামলাটি পরিচালিত হয়েছে গাড়িবোমা দিয়ে।

শনিবার রাতে বেসিকটাস স্টেডিয়ামের কাছে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে এ জোড়া বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের পর এরিনা মাঠসংলগ্ন সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেসিকটাস স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচের দুই ঘণ্টার মাথায় এ হামলা চালানো হয়।

এখনও পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলায় আইএস এবং কুর্দি সশস্ত্র যোদ্ধারা জড়িত বলে সন্দেহ করছে তুরস্ক। এই বছরে তুরস্কের মাটিতে এটি পঞ্চম হামলা।

বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে বেশকিছু অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসা হয়।

তুরস্কভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, ফুটবল ম্যাচ শেষে দর্শকরা যখন ছড়িয়ে পড়েন তখন পুলিশের গাড়িও ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিল। এ সময় পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় নবনির্মিত বেসিকটাস স্টেডিয়াম থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। শোনা যায় গুলির শব্দ। দুজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তারা স্টেডিয়ামের বাইরে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

বিস্ফোরণস্থলসংলগ্ন একটি মসজিদের ক্লিনার ওমর ইলমিজ। বিস্ফোরণের সময় মসজিদের পাশের একটি ক্যাফেতে তিনি চা পান করছিলেন। তার ভাষায়, ঘটনাস্থলের আকাশ যেন আগুনে ছেয়ে গেছে। লোকজন টেবিলের নিচে মাথা গুঁজছিল, নারীরা কান্না করতে শুরু করে। ফুটবল ভক্তরা ক্যাফেতে চা পান করা রেখে আশ্রয় খুঁজতে আরম্ভ করে। এটা ছিল ভয়ংকর, জাহান্নামের আগুনের মতো।

basic-bank

Be the first to comment on "ইস্তাম্বুল বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯, আহত ১৬৬"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*