নিউজ ডেস্ক : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ইক্ষু খামারের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা ধান তোলা নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে তাদের চাষ করা ধান কেটে আনতে চান উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা। বেড়ার ভেতরে রোপা আমনের ক্ষেত। স্বর্ণা জাতের ধান রোপণ করা হয়েছিল ১৩৫ একরে। ফলনও হয়েছে ভালো কিন্তু জমির কিনার দিয়ে কংক্রিটের খুঁটি পুঁতে নতুন কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছেন চিনিকল শ্রমিকরা। কিন্তু তাদের চাষ করা এই ধান তারা তাদের ঘরে তুলে আনতে চান। এর আগে উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেখানকার প্রায় আট শ একর জমিতে তাদের ফলানো মাশকালাই, সরিষা ও পাট লুট হয়েছে। এখন কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা ওই জমিতে ঢুকতে পারছেন না সাঁওতালরা। পাক ধরা ধান ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে কাটতে না পারলে তা নষ্ট হওয়ার ভয়ে আছেন তারা।
জানা গেছে, সাঁওতালরা এক শ একর জমিতে ধান এবং প্রায় আট শ একর জমিতে মাশকালাই, সরিষা ও পাট চাষ করেছিলেন। সেই জমি থেকে যখন উচ্ছেদ করা হয় তখন ধান ছাড়া সব ফসল লুট হয়ে গেছে। গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও অনেকে আহত হন। কয়েক শ ঘরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ হয়। সাঁওতালদের দেড় শতাধিক পরিবার এখন ওই এলাকার একটি চার্চের খোলা প্রাঙ্গণ ও পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে দিন কাটাচ্ছে। উচ্ছেদের পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের বাড়ির জমিতে ট্রাক্টর চালালেও ফসলি জমি অক্ষত আছে।
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জে সাঁওতালরা রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার এর জমিতে এবারই প্রথম যৌথভাবে চাষাবাদ করেছিল। চলতি বছরের ১ জুলাই তারা খামারের জমিতে একচালা ছাপরা ঘর তুলেছিল। শ চারেক পরিবার সেখানে বাস করত। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি করে তারা সাঁওতাল এবং পাশের কিছু মুসলিম-হিন্দু পরিবার যৌথভাবে খরচ ও শ্রমের ভিত্তিতে চাষাবাদ শুরু করে।

Be the first to comment on "উৎকণ্ঠায় উচ্ছেদ সাঁওতালরা : ধান ঘরে তোলার সপ্ন"