নিউজ ডেস্ক : বিমানবন্দর গ্রিন চ্যানেলে মালয়েশিয়াফেরত চতুর দুই বন্ধু। সঙ্গে তাদের ৮টি ব্যাগ। স্বর্ণ আছে জিজ্ঞাসা করায় কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। ব্যাগে প্রায় ৪ কেজি ওজনের চকলেটের প্যাকেট। সন্দেহ হওয়ায় দেওয়া হলো স্ক্যানিংয়ে। পাওয়া গেল স্বর্ণের অস্তিত্ব। চকলেটের প্যাকেটের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেল ৪টি স্বর্ণের চেইন! প্রত্যেকটি প্যাকেটে এভাবে ৩ থেকে ৪টি চেইন পাওয়া গেল। চকলেটের প্যাকেটে থাকলে দুধের প্যাকেটেও থাকবে না তা কী করে হয়! সন্দেহ হওয়ায় খোলা হল গুঁড়ো দুধের প্যাকেটও। এখানেও পাওয়া গেল স্বর্ণের বেশ কিছু চেইন। এবার চিপসের প্যাকেট স্ক্যান করার পর সেখানেও স্বর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া গেল। টিউব আকৃতির দামি চিপসের প্যাকেটের ভেতর সাদা কাগজ আর স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেল বেশ কয়েকটি স্বর্ণের চেইন, নূপুর আর রিং।
দুই বন্ধুর ব্যাগেই ছিল দুটি ল্যাপটপ। চকলেট, দুধ আর চিপসের প্যাকেটে স্বর্ণ থাকলে ল্যাপটপে কেন নয়? ল্যাপটপ স্ক্যানিং করে কিছুই পাওয়া গেল না। এবার ল্যাপটপের ব্যাগ স্ক্যান করা হলো। শেষে ব্যাগের ভেতর বিশেষভাবে সেলাই অবস্থায় পাওয়া গেল বেশ কিছু স্বর্ণের চেইন। এভাবে আজ মঙ্গলবার সকালে কুয়ালালামপুর ফেরত দুই যাত্রীর ব্যাগ থেকে ১৮৭টি স্বর্ণের চেইন, ৩টি রিং, ১টি নূপুরসহ মোট ৫৯৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ। ঢাকা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার সোহেল রহমান অভিনব কৌশলে আনা স্বর্ণ জব্দের কাহিনী জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে কুয়ালালামপুর থেকে বিজি৮৭ ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার মো. মজিবুর রহমান মোল্লা ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মো. নুর আলম নামে দুই বন্ধু আসেনে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাদের চালেঞ্জ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে তাদের সাথে থাকা ৮টি ব্যাগেজ কাউন্টারে এনে স্ক্যানিং করে এসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়।
যুগ্ম কমিশনার সোহেল রহমান আরও জানান, দুই বন্ধু গত ছয় মাস আগে দেশে এসেছেন। তারা দুজনই মালয়েশিয়ায় চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন। দুই প্রবাসীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্বর্ণ ছাড়াও তাদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল, ৭ কেজি ডায়াপার, ৪ কেজি চকলেট, ২৪ কেজি গুঁড়ো দুধ জব্দ করা হয়। স্বর্ণসহ জব্দকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলেও জানান কাস্টমসের ওই যুগ্ম কমিশনার।

Be the first to comment on "চকলেট, চিপস, দুধের প্যাকেট ও ল্যাপটপ ব্যাগে স্বর্ণ!"