শিরোনাম

জাতিসংঘের ইন্টার পার্লামেন্টারির শুনানিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

নিউজ ডেস্ক : নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের শুনানি। এতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এমপি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশ ডেলিগেশনের অন্য দুইজন সদস্য হলেন কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সারোয়ার কামাল ও কক্সবাজার ২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।

‘নীল পৃথিবী : এজেন্ডা ২০৩০’র পরিপ্রেক্ষিতে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে সমুদ্র সংরক্ষণ ও ধরিত্রী সুরক্ষা’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আইপিইউ পার্লামেন্টারি শুনানি।

এবার আইপিইউ’র বার্ষিক এ শুনানিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সাগর, মহাসাগর এবং সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের বিষয়গুলোকে। পাশাপাশি এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও এ শুনানি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। এ বছর জুন মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনকে ফলপ্রসূ করতে ভূমিকা রাখবে এ শুনানি।

বিশ্বের ৫৫টি দেশের ১৭৯ জন সংসদ সদস্যসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ১৯টি এনজিও’র প্রতিনিধিরা এ পার্লামেন্টারি শুনানিতে যোগ দিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পিটার থমসন এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল য়ু হংবো ভাষণ দেন।

সোমবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুনানিতে বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ ডেলিগেশনের প্রধান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমুদ্রের সব সম্ভাবনাকে উন্মোচন করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সম্মিলিত প্রয়াস তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ”

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ, প্রকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন এবং বন্যপ্রাণির সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণে বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১ এ নির্দিষ্টভাবে উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ সন্নিবেশিত করেছে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আর্থ সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে সাহায্য করবে।

আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি তাঁর বক্তব্যে সমুদ্রের দূষণ, মানুষ ও পরিবেশের সাথে সমুদ্রের আন্তঃসম্পর্ক, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ নিম্ন অববাহিকার দেশ, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সমগ্র অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অনুধাবন, অনুশীলন ও সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে এ পার্লামেন্টারি হিয়ারিং সংসদ সদস্যদের জন্য একটি ভালো সুযোগ এনে দিয়েছে বলে আইপিইউ এর প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে উল্লেখ করেন। ” দুই দিনব্যাপী আইপিইউ’র এ বার্ষিক শুনানি মঙ্গলবার শেষ হবে।

basic-bank

Be the first to comment on "জাতিসংঘের ইন্টার পার্লামেন্টারির শুনানিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*